প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
হিমু :
ঘুষ ও দুর্নীতি কমাতে পারলে দেশের উন্নয়নে আর কোনো বাধা থাকবে না। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের দাম কমে আসবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ, জুলুম, ছিনতাই ও ভূমিদস্যুতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে; কারণ তখন সবার কাছেই সৎ পথে উপার্জিত অর্থ থাকবে এবং সবাই নিজের কষ্টের উপার্জনের সঠিক মূল্যায়ন করবে। অন্যায়ভাবে কারও ১০টি বাড়ি, গাড়ি বা ফ্ল্যাট গড়ে উঠবে না। বাজারে গেলে সবাই দরদাম করে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারবেন।
ঘুষ ও দুর্নীতির টাকার প্রভাবে বাজারের প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ হোঁচট খায় এবং পরিবারের চাহিদামতো কেনাকাটা করতে পারে না। বর্তমানে ১ কেজি গুঁড়া চিংড়ি ১,৬০০ টাকা, ১ কেজি ইলিশ মাছ ২,২০০ থেকে ২,৭০০ টাকা, ১ কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, ১ কেজি খাসির মাংস ১,২০০ টাকা এবং ১ কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা। এভাবে প্রতিটি জিনিসের দামই আজ আকাশচুম্বী। অথচ এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ কেনাকাটা করতে গিয়ে কোনো দরদামই করে না। দেখা যায়, বাজারে কতিপয় লোক মাছ, মাংস বা সবজির দরদাম না করেই বিক্রেতার চাওয়া দামে ২/৩ কেজি করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন; আর তখন অসহায় সাধারণ মানুষ তাদের দিকে চেয়ে থাকেন। দুর্নীতি কমলে সবাই বাজারে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে দরদাম করে কেনাকাটা করার সুযোগ পাবেন।
কেউ জমিজমা বিক্রি করতে চাইলে স্বাভাবিক নিয়মেই ক্রেতা খুঁজবেন এবং নির্ধারিত বা ন্যায্য মূল্যে তা বিক্রি হবে। গোপনে কেউ আর ১ লাখ টাকার সম্পত্তি ৫ লাখ টাকায় ক্রয় করার সুযোগ পাবেন না এবং সাব-রেজিস্ট্রারগণও ঘুষ নিতে পারবেন না। ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত থাকবে, তাই তারাও ইচ্ছামতো অপব্যয় করতে পারবেন না। সরকার যদি সুপরিকল্পিতভাবে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে মানুষকে আর কোনো দাবি-দাওয়ার জন্য রাজপথে নামতে হবে না।
সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগের সময় সুনির্দিষ্ট সার্কুলার প্রকাশ করতে হবে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ লিখিত পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষার দিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন না। স্কুলের পাবলিক পরীক্ষার খাতা যেভাবে বোর্ডের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়, ঠিক তেমনি চাকরির পরীক্ষার খাতাগুলো সেনাবাহিনীর একটি নিরপেক্ষ টিমের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন, তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেবে অন্য কোনো দপ্তরের একটি দল—যাতে নিয়োগকারী মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের প্রভাব না থাকে।
ঘুষ ছাড়া চাকরি হলে, সেই চাকরিজীবী পরবর্তীতে নিজেও ঘুষ নেওয়ার সাহস পাবেন না। এছাড়া নিয়োগের সময়ই প্রার্থীর যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক ব্যালেন্সের হিসাব নিয়ে তা সার্ভিস বুক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা রাখতে হবে; প্রয়োজনে তা পত্রিকায় প্রকাশ করে চাকরিতে যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রথমত: যে দপ্তরে যে কর্মকর্তা যে তারিখে যোগদান করবেন, তার এক সপ্তাহ পূর্বে তাঁর স্থাবর, অস্থাবর, পৈতৃক ও শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তির বিবরণ সঠিকভাবে যাচাই করে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সেই নথি জমা দিয়ে তাঁকে যোগদানের অনুমতি দিতে হবে। এছাড়া তাঁর বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত সকল তথ্যও ওই নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত: সরকার যদি একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করেন, তবে দেশ থেকে ৯০% দুর্নীতি কমে যাবে। আইনটি হবে—যাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হবে, তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পরবর্তী এক যুগ (১২ বছর) তাঁর পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি পাবেন না।
তৃতীয়ত: সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের কক্ষের দেয়াল বা দরজা স্বচ্ছ কাচ দিয়ে তৈরি হতে হবে, যেন বাইরে থেকে সবাই দেখতে পান কর্মকর্তা দাপ্তরিক সময়ে কী কাজ করছেন।
চতুর্থত: কর্মকর্তারা তাঁদের নিজ কক্ষে বসে কাজ করবেন এবং পিয়নেরা (অফিস সহায়কেরা) ফাইল তাঁদের টেবিলে পৌঁছে দিয়ে আলাদা কক্ষে অবস্থান করবেন। ফাইল স্বাক্ষর করা শেষ হলে পিয়নেরা তা সেখান থেকে নিয়ে আসবেন। ফাইলের কাজের অগ্রগতি বা সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি কর্মকর্তা নিজেই খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাক জানানোর ব্যবস্থা করবেন। এতে পিয়ন বা কেরানিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হয়রানির কোনো সুযোগ থাকবে না।
পঞ্চমত: প্রতিটি সেবামূলক কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজতর করতে হবে। আবেদনের দিনই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করে জমা নিতে হবে; যাতে ২/৩ দিন পর আবার নতুন কোনো কাগজপত্র চেয়ে গ্রাহককে অযথা ভোগান্তিতে না ফেলা হয়—এমন স্পষ্ট নির্দেশাবলি থাকতে হবে।
ষষ্ঠত: ১ হাজার কোটি কিংবা ৭০০-৮০০ কোটি টাকার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো একক কোনো ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত না রেখে, ৪/৫ জন প্রকৌশলীর মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে। এতে কাজের গতি বাড়বে এবং দুর্নীতি বহুলাংশে হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, যে এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলবে, সেই এলাকার ৪/৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় সাইনবোর্ড টানিয়ে কাজের বিস্তারিত বিবরণ লিখে দিতে হবে; যেন স্থানীয় জনগণ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হতে পারেন।
সপ্তমত: আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সকল ট্যাক্স ও ভ্যাট মালামাল খালাস বা প্রেরণের সময়ই সরাসরি পরিশোধের বিধান করতে হবে। এ নিয়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ রাখা যাবে না। কর পরিশোধের জন্য ১৫ দিন থেকে ১ মাস সময় দেওয়া যেতে পারে; এই সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে কোনো প্রকার কৈফিয়ত ছাড়াই উক্ত মালামাল বাজেয়াপ্ত করা হবে।
অষ্টমত: কোনো সরকারি অফিস, অধিদপ্তর বা হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া বহিরাগত কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না। সাধারণ মানুষ যাতে দালালের মুখোমুখি না হয়ে সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারেন এবং কর্মকর্তারাও তা সমাধান করে দিতে বাধ্য থাকেন—সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এমন স্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।
নবমত: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সকল কর্মকর্তাকে প্রতি ৬ মাস পর পর বদলি করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া কর্মকর্তাদের যার যার নির্ধারিত সেকশনে জমা হওয়া অভিযোগগুলোর অন্তত ৬০% প্রতি মাসের মধ্যে সমাধান করার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।
দশমত: পাসপোর্ট, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, নিকাহনামা, ওয়ারিশ ও নাগরিক সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করতে হবে; কারণ এগুলো সাধারণ মানুষের মৌলিক ও দৈনন্দিন প্রয়োজন। এই সেবাগুলো যত সহজ ও স্বচ্ছ করা হবে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ততটাই লাঘব হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।এতে সরকারের রাজস্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তাই সাধারণ নাগরিক আবেদন করা মাত্রই যেন দ্রুত এগুলো পেয়ে যান, প্রশাসন থেকে এমন কঠোর নির্দেশনা জারি করতে হবে।
একাদশ: সাংবাদিকদের সকল সরকারি অফিস-আদালতে পেশাগত প্রয়োজনে অবাধে প্রবেশের অনুমতি দিলে সরকারের কাজের স্বচ্ছতা শতভাগ বৃদ্ধি পাবে। কারণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সংবাদকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তাগণ সাংবাদিকদের সাথে তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকবেন—এমন নির্দেশনা জারি করতে হবে। তবে কোনো সাংবাদিক যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার সনদ বা পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হবে।
দ্বাদশ: রাজধানীসহ দেশের সকল শহরের ট্রাফিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে (যেমন: ৬ মাস) সেনাবাহিনীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তাঁদের প্রধান কাজ হবে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা—যেন সকল যানবাহন নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামা করায় এবং আইন মেনে চলে। পাশাপাশি সড়ক ও পরিবহন খাতকে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত করাও তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে।
ত্রয়োদশ: রাজধানীসহ প্রতিটি শহরে যাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করবেন, তাঁদের কাছ থেকে কেউ কোনো প্রকার চাঁদা দাবি করতে পারবে না। সবাই নিজ সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবসা কিংবা চাকরি করে সৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করবেন। অসাধু চক্র কোনো শ্রমিকের বা ব্যবসায়ীর কষ্টে অর্জিত আয় থেকে চাঁদা আদায় করবে—এমন অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
চতুর্দশ: সরকারি যেকোনো দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় কোনো এমপি, মন্ত্রী বা রাজনীতিকের ব্যক্তিগত তদ্বির সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। জনভোগান্তি এড়াতে জনপথে সকল প্রকার মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। সাধারণ মানুষের যা দাবি-দাবোয়া থাকবে, তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকবে। সেখান থেকে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ে সেগুলোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে হবে। জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে—এমন কোনো জনসমাবেশ রাজপথে করা যাবে না।
পঞ্চদশ: ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে। তাঁরা ঠিক সেই নির্ধারিত সময়েই ব্যবসা পরিচালনা করবেন এবং সময় শেষ হওয়া মাত্রই রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার করে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য থাকবেন।
ষোড়শ: প্রথমত, নতুন সংবাদের কাগজের ডিক্লারেশন (অনুমোদন) দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হবে। বর্তমানে অনুমোদিত প্রতিটি পত্রিকার মালিকপক্ষের ওপর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে যে, তাঁদের সংস্থায় কর্মরত সকল সাংবাদিক ও কর্মচারীর বেতন বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে সরকার সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখতে পারবে—কোন পত্রিকায় কতজন সদস্য কাজ করছেন এবং তাঁরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন কি না। কোনো প্রতিষ্ঠান বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার ডিক্লারেশন বাতিল করা হবে।
সপ্তদশ: দেশ থেকে দুর্নীতি, প্রতারণা, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি কমে গেলে অপসাংবাদিকতা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি প্রভাবশালী চক্র ও ভূমিদস্যুদের দ্বারা সাধারণ মানুষের প্লট বা ফ্ল্যাট দখলের পাঁতারা কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে জনসংখ্যা বাড়লেও জমির পরিমাণ সীমিত। তাই নতুন করে কোনো সমতল কৃষি জমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা যাবে না; অন্যথায় ভবিষ্যতে দেশ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে। এ বিষয়ে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
অষ্টাদশ: প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কোন্ জমি ধান, ডাল বা শাকসবজি চাষের জন্য উপযুক্ত, তা জরিপ করে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। দেশের প্রতিটি আবাদযোগ্য জমিতে বাধ্যতামূলক চাষাবাদ করার নির্দেশ জারি করতে হবে। পাশাপাশি সার, কীটনাশক ও কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর সরকারকে আগামী ২ বছরের জন্য বিশেষ ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে অপরাধপ্রবণতা বহুলাংশে কমে আসবে।
ঊনবিংশ: প্রতিটি ইউনিয়নে কতটি পরিবার এবং পরিবারে সদস্য সংখ্যা কত, তার সঠিক জরিপ করতে হবে। কোনো পরিবারে যদি একাধিক ভাই থাকেন, তবে তাঁদের যৌথ বাসস্থানের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে বিশেষ সহজ শর্তে গৃহঋণের (লোন) ব্যবস্থা করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে; যেন তাঁরা আলাদা আলাদাভাবে একাধিক কৃষিজমি নষ্ট করে বাড়ি তৈরি না করেন। এতে মূল্যবান ফসলি জমি রক্ষা পাবে। পরিবারগুলো প্রতি মাসে কাজের সুবাদে কিস্তির মাধ্যমে এই ঋণ পরিশোধ করবেন। এমন সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অনিয়ন্ত্রিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ও কৃষিজমি ভরাট পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
বিংশ: জনশক্তি রপ্তানি বা বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যে কাজের জন্য যতজন কর্মী বিদেশে পাঠাবে, প্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি ব্যাংকে গচ্ছিত রাখতে হবে। কোনো কারণে কর্মী বিদেশে যেতে না পারলে, তিনি যেন ব্যাংক থেকে তাঁর জমা টাকা সহজেই ফেরত পান—এমন বিধান থাকতে হবে। এছাড়া সরকার কর্তৃক অভিবাসন খরচ সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। এরপরও যদি কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির আইনি বিধান নিশ্চিত করতে হবে।