প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও মারামারির মামলায় ৩ নম্বর আসামি, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভিডিও ও ফেসবুক লাইভের অভিযোগ, ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ, চলমান বিরোধপূর্ণ আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ!
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জামালকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ও তার চাকরির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও মারামারির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামাল ৩ নম্বর আসামি। ওই মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জামাল হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একজন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও তার চাকরির বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে কোনো মামলায় আসামি হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। মামলার বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।
জামালের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং ফেসবুকে লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এর ফলে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চলে আসে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষকদের কর্তৃত্বকে যথাযথভাবে সম্মান না করা এবং ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়কে ঘিরে চলমান বিরোধপূর্ণ আন্দোলন বা বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।বিশেষ করে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা জরুরি।
এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে কি?
জামাল যেহেতু এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, তাই তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলা, আদালতের জামিন নামঞ্জুরের আদেশ এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এবং প্রযোজ্য চাকরি ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ওই নীতিমালার ১৯ বিধির আওতায় সাময়িক বরখাস্তসহ প্রযোজ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়। এমপিওভুক্ত কর্মচারী হিসেবে জামালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আদালতের আদেশের পর নীতিমালা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না—এটাই এখন দেখার বিষয়।
তবে জামালের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের মামলার চূড়ান্ত রায় এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। তার বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।