১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,রাত ১০:০৪

শিরোনাম
বাংকারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদল সৌদি যুবরাজের! সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সিরাজগঞ্জে চিকিৎসাধীন নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা ঘেরাও করে শিক্ষককে পিটুনি, আহত ৩ পুলিশ সদস্য মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত শিশুদের সুরক্ষায় ২২ জেলায় হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরকার আলিয়া ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে: ইআবি ভিসি দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সাব- রেজিস্ট্রারদের লটারিতে বদলি

শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উমেদার ইমরানের সাম্রাজ্য: ৬০ টাকার কর্মচারীর শতকোটি টাকার সম্পদ

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক:  ঢাকার শ্যামপুর সাব–রেজিস্ট্রি অফিসে যেন ‘ইমরান নীতিতেই‘ চলছে সব কার্যক্রম। কেবল নামের উমেদার বা দৈনিকভিত্তিক অনিয়মিত কর্মচারী হলেও, পুরো শ্যামপুর সাব–রেজিস্ট্রি অফিস জিম্মি হয়ে পড়েছে উমেদার ইমরান ও তার গড়ে তোলা চক্রের কাছে। ৬০ টাকা বেতনের অনিয়মিত কর্মচারী হয়েও বিলাসবহুল জীবনযাপন, গাড়ি–বাড়ি, ফ্ল্যাট, একাধিক দোকান ও অঢেল জমির মালিক বনে যাওয়া এই ইমরানের ক্ষমতার উৎস নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।লাখ টাকার জীবনযাপন ও অঢেল সম্পত্তির মালিক।

শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কর্মরত এই উমেদার প্রকাশ্যে রাজকীয় ও আলিশান জীবনযাপন করেন। ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে যাতায়াত, পরিবার নিয়ে প্রতি বছর প্লেনে করে ভারতে ভ্রমণ, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দোকান ও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক তিনি।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, তেজগাঁও কলোনি বাজার শিল্পাঞ্চল থানার পেছনে ইমরানের নিজের নামে দুটি দোকান রয়েছে। কদমতলী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেরাজনগর বি-ব্লক প্রধান সড়কের পাশে ২৫২/৩ নম্বর হোল্ডিং সংলগ্ন ১০ তলা ভবনে রয়েছে জায়গা সহ ফ্ল্যাট (যার নথি মোতাবেক মাতুয়াইল মৌজা, আরএস-২৫, সিটি জরিপ-২০ নং খতিয়ান, সিএস-৩৩২ ও এসএ-১৫৪)। এছাড়া ইমরানের পিতা ইয়ার আলীর নামে গাজীপুর ও টঙ্গীতে বিপুল পরিমাণ জমি, একাধিক প্লট ও বাড়ি রয়েছে।

​এক অনিয়মিত কর্মচারীর মাসে মাত্র কয়েক টাকা বেতনে কীভাবে এমন বিপুল সম্পত্তি অর্জিত হলো—তা নিয়ে সাধারণ দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​নিজস্ব সহকারী ও বাবুর্চি: মাসে দেড় লাখ টাকা খরচ

শুধু নিজের সম্পদই নয়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একক আধিপত্য বজায় রাখতে ইমরান ক্যাডার ও সহকারী বাহিনী পুষছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার নিজস্ব দুই সহকারী এবং অফিসে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য আলাদা লোক নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কেবল তাদের বেতন ও প্রাত্যহিক বাজার খরচের জন্য প্রতি মাসে ইমরানের পকেট থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।

​’সাব-রেজিস্ট্রারের অন্যতম বিশ্বস্ত’

অফিসের কর্মচারী ও দলিল লেখকদের মতে, শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ইমরানের কথাই শেষ কথা। অফিসের সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুর মতো সম্পর্ক। দলিল লেখকরা জানান, কোনো কাজের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে গেলে তিনি সরাসরি উমেদার ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। ইমরানের অনুমতি ছাড়া বা তার স্বাক্ষর ব্যতিরেকে কোনো দলিলই রেজিষ্টি করা হয় না।

​এমনকি সাব-রেজিস্ট্রারের যাবতীয় অনৈতিক লেনদেন ও ঘুষের টাকা লেনদেনের নিরাপদ মাধ্যম এই ইমরান। সাব-রেজিস্ট্রারের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত এবং একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে পুরো অফিস নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি।

​রাজনীতি ও ক্ষমতার দাপটে তটস্থ সবাই

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলের সুপারিশে এই অফিসে নিয়োগ পেয়েছিলেন ইমরান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে বছরের পর বছর এলাকায় ও অফিসে নানা অপকর্ম চালিয়ে গেছেন তিনি। বিরোধে জড়িয়ে একাধিকবার মারামারিতে লিপ্ত হলেও তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।

​ইমরানের বিরুদ্ধে অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা দলিল লেখক কথা বললেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় কিংবা নানাভাবে হয়রানি সহ্য করতে হয়। ফলে দীর্ঘ এক দশক ধরে এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সবাইকে তটস্থ রেখে নিজের প্রভাব টিকিয়ে রেখেছেন তিনি।

​অনিয়ম ও দুর্নীতির চাদরে ঢাকা শ্যামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে এবং উমেদার ইমরান ও তার চক্রের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় দলিল লেখকরা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

  • শেয়ার করুন