প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
প্রকাশিত:
হুমায়ুন কবির ঃ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছিল (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত) বিএনপির তথ্য ও সংরক্ষণ শাখার হিসাব এবং আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের আর এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল প্রায় ৪০ লাখ থেকে ২২ লাখেরও বেশি নেতা–কর্মীকে (দলীয় ও বিভিন্ন সূত্র মতে যা ৬০ লাখ পর্যন্ত দাবি করা হয়)।
শীর্ষ মামলার শিকার কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা:
হাবিব উন নবী খান সোহেল > ৪৫০টির বেশি মামলা
এস এম জাহাঙ্গীর > ৩৫০টি মামলা
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু > ৩১৫টি মামলা
সাইফুল আলম নিরব > প্রায় ১২৬ থেকে ৩৯৪টি মামলা
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল > ২৫৪টি মামলা
রুহুল কবির রিজভী > ১৮০টি মামলা
তবে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অপরাধের ভিত্তিতে মামলা হলেও তার সংখ্যা ৫০ হাজারও ছাড়ায়নি—যা বিএনপির সংযমেরই পরিচয় দেয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, দলের কিছু হাতেগোনা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী রাতারাতি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। অথচ যাদের ত্যাগ, রাজপথের সংগ্রাম ও রক্তে দল আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে, সেই হাজার হাজার কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও যুবসমাজ আজ উপেক্ষিত, বেকার এবং নিস্তব্ধ।
বর্তমানে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি:
দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট > বিভিন্ন পদে বসে কিছু ব্যক্তি সাবেক ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গোছাতে ব্যস্ত। প্রশাসন বা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবাজ কোনো কর্মকর্তাকে বদলি বা বরখাস্ত করা হলে, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পদায়ন বহাল রাখার অভিযোগ উঠছে।
ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন > গত ১৬ বছর ধরে যারা হামলা, মামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে নিঃস্ব হয়েছেন, নতুন স্বস্তির আবহে তারা একটু সুখে-শান্তিতে বাঁচার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ত্যাগী ও সাধারণ কর্মীরা আগের মতোই প্রান্তিক রয়ে গেছেন।
আইনশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি > ফ্যাসিবাদের পতনের পরও চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ঘরের বা দলের ভেতরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে গিয়ে উল্টো সাধারণ কর্মী ও মানুষ জুলুমের শিকার হচ্ছেন।
প্রশাসনের অপরিবর্তিত ভূমিকা > পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুরোনো আচরণের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজে পাচ্ছে না।
পরিশেষে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ যদি নিজেদের স্বার্থ ও স্বজনপ্রীতি ত্যাগ করে কঠোর পদক্ষেপ না নেন, তবে এক সন্ত্রাসকে তাড়িয়ে আরেকটি নতুন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উত্থান ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। জনমানুষের প্রকৃত নিরাপত্তা ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এই ভুলগুলো দ্রুত সংশোধন করা জরুরি।