প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬
প্রকাশিত:

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ফয়েজউদ্দিন আহম্মদ
মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা কাজল ঃ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ফয়েজউদ্দিন আহম্মদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার, পুলিশ প্রশাসন, পুলিশিং উন্নয়ন এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় কাঠামো—বিশেষ করে হাউস অব কমন্স ও হাউস অব লর্ডসের কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার অধিকারী।
তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার দক্ষতা আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে কর্মজীবন শেষে ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান ড. ফয়েজ উদ্দিন। এরপর তিনি বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে কাউন্সিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করে নিজের পেশাগত দক্ষতার পরিধি আরও বিস্তৃত করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি স্থানীয় সরকার পরিচালনা, নীতি বাস্তবায়ন, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাশাপাশি কমিউনিটি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নেও তাঁর অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং, জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব দক্ষতার পরিচয় বহন করে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। নিউ হোপ গ্লোবাল এবং নিউ হোপ এডুকেশন সিআইসি-এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসচেতনতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং কমিউনিটি উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন। একই সঙ্গে দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় তাঁর দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন দক্ষ নীতি-পরিকল্পনাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ড. ফয়েজ উদ্দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে তাঁর গবেষণা ও নীতিগত চিন্তাভাবনা। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, সুশাসন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা নিয়ে একাধিক গবেষণা, বই ও নীতিগত প্রস্তাবনা প্রণয়ন করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে যুক্তরাজ্যের সফল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যকর দিক বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপিত হয়েছে।
ড. ফয়েজ উদ্দিনের ভাষ্যমতে, তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্থানীয় সরকার আধুনিকায়ন, পুলিশ সংস্কার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও কাজ করার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে এসব বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছিল।
এছাড়া তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুতের কাজেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি জানান, খসড়াটি বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়, যেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এসব বিষয়ে প্রাসঙ্গিক নথি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের জনজীবনের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর প্রয়াত বড় ভাই অধ্যাপক ডা. আলাউদ্দিন দেশের একজন খ্যাতিমান নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, প্রশাসনিক সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক আধুনিকায়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। বাংলাদেশও যদি যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, তবে তা প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনসেবার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সে বিবেচনায় ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই-এর আন্তর্জাতিক কর্মঅভিজ্ঞতা, গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণের সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহ তাঁকে স্থানীয় সরকার সংস্কার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, কমিউনিটি উন্নয়ন, শিক্ষা, পুলিশ-জনসম্পর্ক এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বিষয়ক যেকোনো বিশেষজ্ঞ আলোচনা বা পরামর্শমূলক উদ্যোগে বিবেচনার যোগ্য করে তুলতে পারে।
সরকার যদি ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই-এর মতো অভিজ্ঞ প্রবাসী বাংলাদেশির জ্ঞান, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং নীতিগত গবেষণা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়নে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হতে পারে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের আগামী অধ্যায়ে সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে দেশের মেধাবী মানুষ—তারা দেশে থাকুন কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে। আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমন ব্যক্তিত্বদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা গেলে প্রশাসনিক সংস্কার, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই-এর অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং নীতি-নির্ধারণী সক্ষমতা নিয়ে একটি গঠনমূলক ও ইতিবাচক জাতীয় আলোচনা সময়ের দাবি।

সংকল ও লেখক: মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা কাজল (সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন)