প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় আজ বৃহস্পতিবার দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে এ মামলায় তিনজন সাক্ষী জবানবন্দি দিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সব আসামিই পলাতক।
ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্য দেন শহীদ আকরাম খান রাব্বীর (২৮) বাবা মো. ফারুক খান এবং শহীদ মেহরুন নেছা তানহার বাবা মো. মোশারফ হোসেন।
জবানবন্দিতে ফারুক খান বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার পর মিরপুর ১০ নম্বরে পপুলার হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তাঁর ছেলে আকরাম খান। ওই দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর কাছে ফোন আসে, তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি ছেলেকে মৃত অবস্থায় পান।
জবানবন্দিতে ফারুক খান আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর তাঁর ভাগনি মেহরুন নেছা তানহা বিজয় মিছিল নিয়ে গণভবনে যান। বিকেলে হাতে ফুল নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন। তিনি ও তাঁর বোন (তানহার মা) একই ভবনে বসবাস করেন। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি তাঁর ভাগনি তানহাকে ভবনের ভেতরে ওপরে যেতে বলেন। তানহা বাসায় গিয়ে জানালা থেকে বাইরের পরিস্থিতি দেখেন, তাঁর ভাইকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। এ সময় বাইরে থেকে ছোড়া একটি গুলি তাঁর ভাগনি তানহার বুকে বিদ্ধ হয়। ওই সময়ে তাঁর বোনের বাসায় সাবলেট থাকা একজন নারীও গুলিবিদ্ধ হন। তাঁরা দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তানহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই মামলার আসামিদের এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেন ফারুক খান।
মিরপুর শাহ আলী কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন মেহরুন নেছা তানহা। তাঁর বাবা মোশারফ হোসেন জবানবন্দিতে বলেন, তানহা তাঁর একমাত্র মেয়ে ছিলেন। তাঁর আরেকটি ছেলে সন্তান আছে।
মোশারফ হোসেন আরও বলেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর দুই ছেলে-মেয়েই আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি তাঁদের প্রায়ই আন্দোলনে অংশ নিতে বারণ করতেন। ১৯ জুলাই তাঁদের মামাতো ভাই আকরাম খান রাব্বী শহীদ হন। এর পর থেকে এ দুই ভাইবোনকে আর ঘরে ধরে রাখা যায়নি।
মেনন ও কামরুলের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ২ মার্চ
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে ২ মার্চ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।