প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেওয়া হয়েছে, তাতে সৃষ্টি হয়েছে গুরুতর জখমের চিহ্ন
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তাহমিনা আক্তার।
তাহমিনা আক্তার বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া রিমান্ড শেষে আসামিকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এই মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিন, তাঁর স্ত্রীর সাত দিন, গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার বাদী ওই শিশু গৃহকর্মীর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের জুন মাসে তিনি তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়েকে এই বাসায় কাজে দেন। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় তিনি সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। গত ৩১ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে বীথি তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর মেয়ে অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। তিনি দুইটার দিকে মেয়েকে আনতে যান। তখন বীথিকে ফোন করলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বীথি সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির বাইরে তাঁর কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।
মামলার অভিযোগ বলা হয়, বাদী তখন দেখেন তাঁর মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। কীভাবে এমন হলো জানতে চাইলে বীথি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়ে তাঁকে জানায়, গত ২ নভেম্বর তিনি দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে সাফিকুর রহমান, বীথিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধর, খুন্তি গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পরে বাদী এসব নিয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন। ৫ ফেব্রুয়ারি গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশের এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সরকার।