১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,সকাল ১১:২৯

শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন আজ পুলিশের হাত থেকে যুবলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন যুবলীগ কর্মীরা শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: মন্ত্রী চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের গণআন্দোলন: আঠারো কোটি মানুষের আরেকটি স্বাধীনতার স্বপ্ন জাতিসংঘের হিসাব ও সরকারি গেজেটের বাইরে থাকা ৫৬৪ নিহতের পরিচয় প্রকাশের দাবি বিসিআরএসের সহপাঠীদের ‘আপত্তিকর’ ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠাতেন ছাত্রী, হল থেকে বহিষ্কার সরকারের পাঁচ মাস না যেতেই ‘ব্যর্থ’ বলা ভীষণ অসহিষ্ণুতা, মির্জা ফখরুল জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী

“মহাসচিব ও তথ্যমন্ত্রী আপনাদের ঘনিষ্ঠ প্রেস ক্লাব সদস্যদের অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখুন”

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

 হিমু : জাতীয় প্রেসক্লাবের আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তের মতো সদস্যদের ক্রয় করতে বিএনপির নামধারী একাধিক নেতা কিছু কিছু সদস্যকে এখনই লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া শুরুসহ নানান প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ষড়যন্ত্র যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য প্রবীণ, পেশাদার ও ত্যাগী সাংবাদিকদের সুপরিকল্পিতভাবে সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চামচাদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রগুলোর সামনে মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে নিরীহ, সম্মানিত ও প্রবীণ সদস্যদের চোখে ধরা পড়েছে।

এর ফলে, ঐ মাতব্বরি করা শীর্ষ নেতার ভূমিকা এবং অবৈধভাবে অপেশাদার ও অশিক্ষিতদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়টি প্রবীণ, সৎ ও সভ্য সদস্য এবং অতীতের কোরাম নেতাদের নজরে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সিনিয়র সদস্য জানান, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ক্লাবের সুন্দর পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপিকে মূল্যায়ন করেছেন, নেতাদের বাসায় গিয়ে কিংবা ফোনের মাধ্যমে প্রতিবাদ সম্মেলনের দাওয়াত দিয়েছেন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন—আওয়ামী ধারার সদস্যরাও ক্লাব থেকে তাদের সদস্যপদ বাতিল করার সাহস পায়নি। অথচ তখনকার সময়ে যারা সমাবেশে বা ক্লাবে রীতিমতো আসতেন না এবং লীগের সাথে আঁতাত করে চলতেন, তারাই আজ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে ঘনিষ্টভাবে মেলামেশা করছেন।

তবে মন্ত্রীদের অতীতের কথা স্মরণ করা উচিত যে, গত ১৬ বছরে এদের মধ্যে কেউ কি কোনোদিন তাদের বাসায় গিয়েছেন বা একটিবারের জন্যও ফোন করে কোনো সমাবেশে ডেকেছেন  কি ? এরা কি কোন সময় একটা ব্যনারও নিজেরা কেহ করেছেন ?  তারা কি কেহ সত্যিকার জনগনের বা তাদের পাশে ছিলেন ? আজ তারা পাশে ঘোরাঘুরি করছেন কোন লোভে ? তা বুঝতে হবে।  কানে কানে কথা বলছেন, কি তারা বলতে চাইছেন ? আর অন্যদিকে যারা আগে মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তারা আজ ক্লাবের সদস্যপদ হারানোর পাশাপাশি আপনাদের সান্নিধ্যও হারিয়েছেন।

আপনারাই প্রশ্ন করুন—যে সময় মহাসচিবকে লীগ অপমান-অপদস্ত করেছিল, তখন এরা কোথায় ছিলেন? এরা যে আজ আপনাদের সাথে বসে ছবি তোলেন এবং কানে কানে কথা বলেন, সেই ছবিগুলো আবার ঐ দালাল ও অপেশাদার সাংবাদিকদের কাছে দেখিয়ে নিজেদের বড় সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে—তা কি আপনারা বুঝতে পারেন?

ক্লাবে যারা মাতব্বরি করেন, তাদের মধ্যে বিএনপির কতজন খাঁটি সাংবাদিক আছেন তা একটু দেখুন। একজনও খাঁটি সমর্থক নেই, সবাই সুযোগ সন্ধানী! এরা বিএনপিপন্থীদের সংখ্যা বেশি দেখলে বিএনপি হয়ে যায়, আর লীগ দেখলে লীগ হয়ে যায়। এদের কোনো বিবেক নেই, এরা শুধুই টাকা চেনে। দল বা পদের মর্যাদা রক্ষা করা এরা বোঝে না; যার ফলে জাতীয় প্রেসক্লাবের নীতিমালা আজ ধ্বংসের মুখে।

খুব দ্রুত বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ক্লাবের সদস্যপদের এই বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। ক্লাবে আসলেন আর কেউ কানে কানে কিছু বলল তা শুনেই চলে গেলেন—এমনটা করা ঠিক নয়। এদের মধ্যে অনেকে লীগের সুবিধাভোগী, আবার অনেকে জামায়াত ও বিএনপি—দুই নৌকায় পা দিয়ে চলে! জাতীয় প্রেসক্লাবকে এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।

সঠিকভাবে চিহ্নিত করা দরকার কে বিএনপির ?  কে লীগের ? আর কে জামায়াতের ? এরপর বিবেচনা করা উচিত কার কী দাবি বা অধিকার রয়েছে এবং দলগতভাবে তা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে। কারণ, যারা ত্যাগী নন, তারা আজ ত্যাগের ফল ভোগ করছেন; আর যারা প্রকৃত ত্যাগী ছিলেন, তারা আজ সাংবাদিকতার পরিচয়ই হারিয়েছেন। এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না। তা না হলে বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে তফাৎ রইল কোথায় ?

  • শেয়ার করুন