প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
হিমু :
প্রথম শ্রেণি: নীতিনির্ধারক ও নেতৃত্বের পর্যায় >এই পর্যায়ে যেসব নেতৃত্ব রয়েছেন, তাঁদের বড় একটি অংশ ব্যক্তিস্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা করপোরেট পেশিশক্তির কাছে নতিস্বীকার করে সুবিধাবাদী ভূমিকা পালন করেন এবং নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেন। এদের মধ্যে শতভাগ সৎ ও বিবেকবান মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই বিরল। এসব নেতাদের মুখের কথা ও বাস্তব কাজের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকে—মুখে যা বলেন, কাজের ক্ষেত্রে তার ২০ শতাংশও সততার স্বাক্ষর রাখেন না। এরা বেশির ভাগই মোনাফেক ।তারা পেশাদারি দক্ষতার চেয়ে বরং তোষামোদি সংস্কৃতিতে বেশি বিশ্বাসী; তাই যেসব অপেশাদার ব্যক্তি ‘জী স্যার, হয় স্যার, বস্, ওস্তাদ’ বলে অন্ধ আনুগত্য দেখায়, তাদেরকেই এরা সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করেন।
দ্বিতীয় শ্রেণি: তোষামোদকারী ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী> এই শ্রেণিটি মূলত পুরোপুরি অপেশাদার ও অপসাংবাদিকতার প্রতীক। এরা প্রকৃত সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত না থেকে ক্লাব বা প্রেস ক্লাবে এসে আড্ডা মেরে সময় পার করে। সুবিধাবাদী স্বভাবের কারণে যেকোনো নেতার সঙ্গে খুব অল্প সময়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে এরা অত্যন্ত পটু।
এরা সব সময় পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, দুর্নাম ও চক্রান্তে লিপ্ত থাকে,এরা হলো চোগলখোর, এরা সব সময়ই নজর রাখে নেতাদের প্রতি যেন কোনো সৎ ও দক্ষ সাংবাদিক নেতাদের কাছাকাছি যাহাতে যেতে না পারেন। নেতাদের খুশি রাখতে এরা সব ধরনের অনৈতিক চাহিদা মেটায়—বাসার বাজার করা, অসুস্থতায় হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করা, গাড়ির দরজা খুলে দেওয়া এবং সার্বক্ষণিক ‘বস বস’ বলে অন্ধ তোষামোদি করে মুখে ফেনা তোলা।
এদের পুরো জীবনে কোনো স্বীকৃত পত্রিকায় বা গণমাধ্যমের কোনো দপ্তরে একদিনও দায়িত্বশীল কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সংবাদের মৌলিক ধারণা, বিশ্লেষণ বা গঠনমূলক আলোচনার কোনো জ্ঞান এদের অনুপস্থিত; এদের দিন কাটে নেতাদের অতি-প্রশংসা কিংবা প্রতিপক্ষের গীবত করে। আর এদের মূল লক্ষ্য থাকে নেতাদের কাছ থেকে দৈনন্দিন ৫০০-১০০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
তৃতীয় শ্রেণি: মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিক > এরা হলেন সেই নিরলস সাংবাদিক, যারা দিনরাত চরম ঝুঁকি ও কষ্ট সহ্য করে মাঠপর্যায় থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করেন, সততার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করেন এবং সংবাদমাধ্যমের মূল দায়িত্বভার কাঁধে রাখেন। কাজের সমস্ত পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও জীবনের ঝুঁকি এরাই গ্রহণ করেন; কিন্তু দুঃখজনকভাবে উপযুক্ত স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন থেকে এরা প্রায়শই বঞ্চিত হন।
এর মূল কারণ হলো—কাজের প্রতি একনিষ্ঠ থাকার কারণে নেতাদের তোষামোদ করা বা তাঁদের পেছনে সময় দেওয়ার সুযোগ এদের হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে নেতাদের সঙ্গে মাসেও একবার সাক্ষাৎ হয় না। ফলে নেতৃত্ব বা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এদের অবস্থান থাকে একদম উপেক্ষিত; এবং যে মান-সম্মান, সুযোগ-সুবিধা কিংবা প্রাপ্য স্বীকৃতি এদের পাওয়ার কথা, তা থেকে এরা বঞ্চিতই থেকে যান।