২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার,রাত ৩:৫১

শিরোনাম
স্বজন হারানোর আর্তনাদ: প্রকাশ্যে ঘাতকদের অপকর্ম, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, দুদকের অভিযান শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি চরমে পৌছেছে ! বগুড়ায় জেলা জজের যোগদানের দিনেই এজলাসে হট্টগোল, আইনজীবীদের মানববন্ধন • অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর: +৮৮০১৩১৩৪১৯৪১৫ প্রবাসীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণার দাবিতে সিইসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে লেবার পার্টি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাক্ষাৎ বৈশাখী ভাতা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল সরকারি চাকরিজীবীরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জাফর ইকবালসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ চেকপোস্টে ৬ জন গ্রেফতার

স্বজন হারানোর আর্তনাদ: প্রকাশ্যে ঘাতকদের অপকর্ম, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি:

মুল্লুক চাঁদ, মনির খন্দকার ও মহিউদ্দিন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের বড় অংশ এখনো গ্রেফতার হয়নি। একদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সাধারণ আদালতে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের ঢিলেঢালা তদন্ত ও দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাবে ক্ষোভ বাড়ছে শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তদন্তের নামে কেবলই সময় পার করা হচ্ছে।মামলার সংখ্যা অনুপাতে আসামিদের গ্রেফতার বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট ক্লু বের করার ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতা খুবই ধীরগতি।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবারগুলো। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলিতে শিক্ষার্থী হত্যার স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ অপরাধীদের গেপ্তারে রহস্যজনক গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী অপরাধী ও মাঠপর্যায়ের শুটাররা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ “আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না” বলে সময় পার করছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা ও ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলার মূল আসামিরা দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দলগতভাবে আগের মতোই চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ, ফতুল্লা থানার হত্যা মামলার আসামি মুল্লুক চাঁদ ও মনির খন্দকার ভুঁইগড় এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলার আসামি মহিউদ্দিন ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও অপরাধ সংগঠন করে বেড়াচ্ছে। এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আসামিদের অবস্থান জানা যাচ্ছে না।

সন্তান ও স্বজন হারিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যখন প্রতিনিয়ত শোক ও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, তখন চিহ্নিত খুনি ও অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় আইনের শাসনের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। এই ধরনের অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা হলে সমাজের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেমন ভেঙে পড়বে, তেমনি শহীদদের রক্তের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

অনতিবিলম্বে ফতুল্লা ও যাত্রাবাড়ীসহ দেশের সকল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী পরিবারসমূহ

  • শেয়ার করুন