প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি ঃ নির্বাচন কমিশন আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য টাইমলাইন ঘোষণা করেছে। ২৭ সালের শুরুতে সিটি নির্বাচন হবে—এমনটি ধরে নিয়ে মাঠ গোছাচ্ছেন গাজীপুরের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। দিন রাত শহর থেকে মহল্লায় গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।
দেশের সবচেয়ে বড় সিটি গাজীপুরে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হাফ ডজনেরও বেশি নেতা। আর জামায়াতের একক প্রার্থী নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টিও এখানে প্রার্থী দিতে পারে।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর তৎকালীন মেয়র জায়েদা খাতুনকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত মেয়র নেই। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার কাঠামো পরিবর্তনের পর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আসন্ন সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। প্রতিনিয়ত সিটির এ প্রাপ্ত থেকে ও প্রান্তে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। প্রশাসক হিসেবে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করছেন।
বিএনপি ও এনসিপির পক্ষ থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে কারো নাম ঘোষণা করেনি এখন পর্যন্ত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় বিভিন্ন নেতার নাম উঠে এলেও তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বলা হচ্ছে, চূড়ান্ত প্রার্থী নয়।
জামায়াত অবশ্য তাদের প্রার্থী হিসেবে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে। গত ৬ মে গাজীপুরের টঙ্গীর তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং জাতীয় রাজনীতিতেও জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।
গাজীপুরে বরাবরই বিএনপির অবস্থান শক্ত। প্রথম সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করেন। এর পরের নির্বাচনগুলোর একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয় এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। তবে এই দুটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল ভোটারদের কাছে। বিএনপি এবার যে করোই হোক হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে চায়। সরকারের উন্নয়ন বাজেটের সুযোগ কাজে লাগাতে দলীয় মেয়র চাইছে তৃণমূল বিএনপি। তবে দলে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তাদের মধ্যে একজন গাজীপুর বিএনপির প্রবীণ নেতা ও ২০২৮ সালের নির্বাচনে দলের মেয়রপ্রার্থী সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার। একাধিকবারের সাবেক দুজন কাউন্সিলরও এবার মেয়র পদে লড়তে চান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।
শওকত হোসেন সরকার যুগান্তরকে বলেন, দলের প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আস্থা রেখে আমাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি ওই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষায় রাতদিন মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপিও দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে। তখন আমরা আমাদের সর্বাত্মক দলীয় শক্তি নিয়ে মাঠে নেমে পড়ব।
দল তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেও এখন পর্যন্ত দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেনি। তবে, শওকত সমর্থকরা ধরেই নিয়েছেন, তিনিই নিশ্চিত মনোনয়ন পাচ্ছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার, গাজীপুর বারের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. শহীদুজ্জামান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক তিনবারের কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু, তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর ও মেট্রো থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাসান আজমল ভূঁইয়াসহ কয়েকজন নেতা। তাদের প্রত্যেকে মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী।
জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এনসিপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এখনো কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমের পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান সিটিতে প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়াও একদুজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলও সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।