প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬
কাজী আবির আসলাম ঃপল্টনে গুলিবিদ্ধ বিএনপির এক নেতার ওপর সিভিল এভিয়েশন হেড অফিসে যুবলীগের এক কর্মীর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদ কায়েমে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে আবারও সংগঠিত হচ্ছে এবং তাদের কিছু নেতাকর্মী আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি খসরু চৌধুরীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত জুয়েল ছাত্রদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জুয়েলের নিয়মিত অবস্থানের স্থান ছিল ৪ নম্বর সেক্টরের হলি ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে। সেখানে খসরু চৌধুরীও নিয়মিত অবস্থান করতেন। আরও দাবি করা হয়েছে, সিভিল এভিয়েশনের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আন্দোলনে ব্যয় করা হতো। খসরু চৌধুরীর সঙ্গে জুয়েলের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন রতনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জুয়েল লোকজন নিয়ে তার ওপর অতর্কিত ১ জুলাই ২০২৬, দুপুর বেলায় তারা হামলা চালান। জুয়েলের সঙ্গে কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ারের সখ্যতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মহিউদ্দিন রতন জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির একজন কর্মী ছিলেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন এবং একাধিক হামলা ও মামলার শিকার হন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিউদ্দিন রতন সাবেক বিমানবন্দর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি এবং বিমানবন্দর থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এয়ারপোর্ট সিভিল এভিয়েশন হেড অফিসে এখনও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রভাব রয়েছে। অনেক কর্মকর্তা বদলির আদেশ পাওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে নিজ নিজ পদে বহাল আছেন, যা সরকারি বিধি-বিধানের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রতনের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরও তার সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা উদ্বেগের বিষয়।