৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার,রাত ১২:৫৬

শিরোনাম
বন্দরে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষ উদযাপন জামালগঞ্জে প্রভাবশালী কর্তৃক জোরপূর্বক নীরিহ ব্যাক্তির জায়গা দখলের অভিযোগ সরকার জনগণের প্রতি খুবই আন্তরিক : হুমায়ুন কবির কর্ণফুলী চ্যানেলে লাইটার জাহাজ ডুবি: কোস্ট গার্ডের তৎপরতায় ১২ নাবিকদের জীবিত উদ্ধার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষায়ণের সাথে তাল মিলিয়ে রাঙামাটি মুজাদ্দেদে-ই-আলফেসানী একাডেমির উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ সচিবালয়ে সাংবাদিকতার আড়ালে আ’লীগ নেতার চাঁদাবাজি ও ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিরোধী দলের আসনে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান চীনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

স্বামী-সন্তানের সঙ্গ হারিয়ে মানবেতর জীবন: একটি নিরাপদ ঘর আর বিশুদ্ধ পানির আশায় বৃদ্ধা তহমিনা

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মোঃ ইব্রাহীম মিঞাঃ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টাটাকপুর গ্রামের বাসিন্দা তহমিনা (৬৫)। মৃত মোহাম্মদ আলী শাহের দ্বিতীয় কন্যা তিনি। স্বামী রইচ উদ্দিনের মৃত্যুর পর বাবার দেওয়া মাত্র তিন শতক জমির ওপর একটি ছোট্ট মাটির কুঁড়েঘরেই কেটে যাচ্ছে জীবনের শেষ প্রান্তের কঠিন সময়।

 

এক সময় সংসারে ছিল এক ছেলে ও এক মেয়ে। সংসার চালাতে ছোট্ট একটি দোকান করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর হিসেবে মাটি কাটার কাজ করেছেন তিনি। অমানুষিক পরিশ্রম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ছেলে আলাদা হয়ে অন্যত্র সংসার গড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মায়ের কোনো খোঁজখবরও নেয় না। ফলে জীবনের এই শেষ বয়সে সম্পূর্ণ একাকী হয়ে পড়েছেন তহমিনা।

 

বর্তমানে তার বসবাসের ঘরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মাটির দেয়াল ভেঙে হেলে পড়েছে, টিনের ছাপড়া যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। রান্নাঘরটিও প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ভাঙা চুলার পাশে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কোনো রকমে রান্নাবান্না করেন তিনি। বর্ষা এলেই আতঙ্ক বেড়ে যায়—কখন যে ঘরটি ভেঙে পড়ে, সেই আশঙ্কায় দিন কাটে।

 

সবচেয়ে বড় কষ্ট বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। একসময় বাড়িতে একটি টিউবওয়েল থাকলেও বহু বছর আগে সেটি চুরি হয়ে যায়। নতুন করে আর কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হেঁটে ঈদগাহ মাঠের পাশ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীরে এই পথচলা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

 

দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় অনেক দিনই দুবেলা খাবার জোটে না। কখনো একবেলা, কখনো না খেয়েই দিন পার করতে হয়। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চেয়ে কোনোমতে জীবন টিকিয়ে রেখেছেন তিনি। অথচ কোথায় গেলে সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়, কীভাবে আবেদন করতে হয়—এসব বিষয়ে তার কোনো ধারণাই নেই।

 

সমাজে এমন অসহায় মানুষের সংখ্যা কম নয়। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে যদি এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, তবে তাদের শেষ জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে।

 

তহমিনার চাওয়া খুব বেশি নয়। মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘর এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য একটি টিউবওয়েল। এই দুটি মৌলিক চাহিদা পূরণ হলে হয়তো জীবনের শেষ সময়টুকু একটু স্বস্তি আর মর্যাদার সঙ্গে কাটাতে পারবেন তিনি।

  • শেয়ার করুন