৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,রাত ১১:১৭

শিরোনাম
বন্দরে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মামলায় আউয়াল গ্রেফতার জ্বালানি তেলের দাম বাধ্য হয়ে বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্দেশিত বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী উদ্যোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ঢাকার সড়কে বেড়েছে গণপরিবহন, অধিকাংশই যাত্রীশূন্য বিআরটিএর মোবাইল কোর্টে ১০ দিনে ৮১৩ মামলা আশুলিয়ায় প্রথমে এক ভাইকে গুলি, পরে অন্য জায়গায় গিয়ে আরেক ভাইকে গুলি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৮ মে যশোর বাঘারপাড়ায় রায়পুরে কনসার্টে নারীকে উত্ত্যক্তের জেরে সংঘর্ষ, আহত ৬ রুপগঞ্জে নবগঠিত রুপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়ার ক্লাবের কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ১১ সদস্যের অব্যাহতি

প্রেসক্লাবে সদস্যপদ বিক্রি ! কোটি টাকার বানিজ্য আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তদন্তের দাবি

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ঢাকা: জাতীয় প্রেসক্লাব মূলত বাংলাদেশের পেশাদার সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, অধিকার রক্ষা ও পারস্পরিক মেলবন্ধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৪ সালের ২০ অক্টোবর এটি ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রেস ক্লাব’ নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এর নাম পরিবর্তন করে ‘জাতীয় প্রেসক্লাব’ রাখা হয়।

ঐতিহাসিক এই ক্লাবটি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৫ সালে সাড়ে ৬০০ নতুন সদস্যপদ প্রদানকে কেন্দ্র করে এর ইতিহাসে নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০১৬ সালের ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনেও অনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্ধ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ লেনদেনের গুঞ্জন ছড়ায়। এমনকি সেই সময় পাঁচতারা হোটেলে মদ্যপানের আড্ডার আয়োজন নিয়েও ক্লাবের অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

২০১৬ সালের সেই বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় যারা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা ক্লাব থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাদের সহযোগী এবং অতীতে বিতর্কিত নামগুলোই বর্তমানে নিজেদের লোভ-লালসা বজায় রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এবারও পাঁচতারা হোটেল, ক্লাব প্রাঙ্গণ এবং গাড়িতে বসে মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে বলে ক্লাবসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমনকি এক সদস্যের মাধ্যমে ‘টোকেন মানি’ হিসেবে ঘুষ গ্রহণ করে নতুন সদস্যপদ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যাহা ২০২৬ সালের ১২ মে যে ৪৪১ জন নতুন সদস্যপদ পেয়েছেন, তা নিয়ে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তৎকালীন দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালী মহল এই নতুন সদস্যপদ বাণিজ্য থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এবারের সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত যোগ্যতা কিংবা তারা আসলেই সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন কিনা—তার কোনো কিছুই বিবেচনা করা হয়নি। বরং কমিটির প্রভাবশালী মহলের চাহিদামতো যারা লাখ লাখ টাকা ও দামি উপহার পৌঁছে দিতে পেরেছেন, তাদেরই সদস্য করা হয়েছে। নতুন এই সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, জনসংযোগ কর্মকর্তা (PRO), টিকটকার, ইউটিউবার এবং বিভিন্ন অপেশাদার ব্যক্তি ও সাংবাদিক নেতাদের ক্লাবের ও ইউনিয়নের আনাচে কানাচে ২৪ ঘন্টা  বসে থাকা রক্ষিত চামচারা । সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনা ক্লাবের বিগত ৬১ বছরের সদস্যপদ দেওয়ার মূল নীতিমালা ও ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিকরা মনে করছেন, ২০১৬ সালের ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সেই বিতর্কিত নির্বাচন যেমন ক্লাবের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে আছে, ঠিক তেমনি ২০২৬ সালের এই ৪৪১ জন নতুন সদস্যপদ দেওয়ার অনিয়ম, অনৈতিকতা ও অবৈধ লেনদেনের ঘটনাও সৎ ও আদর্শবান পেশাদার সাংবাদিকদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এই নজিরবিহীন জালিয়াতি নিয়ে আগামীতে যেকোনো সময় ক্লাবের অভ্যন্তরে বড় ধরনের জবাবদিহিতার ঝড় উঠতে পারে।

কারণ, অন্যায় ও পাপ কখনো চিরস্থায়ী হয় না। অবৈধ অর্থ বা ক্ষমতা হয়তো সাময়িকভাবে টিকে থাকে, কিন্তু মানুষের বিবেক কখনো পুরোপুরি মরে যায় না। একদিন না একদিন এই ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিবেক জাগ্রত হবেই। সেদিন তারা নিজেদের বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কোনো শান্তি পাবে না, বরং অনুশোচনার আগুনে পুড়তে হবে। ক্ষমতার দম্ভে আজ যারা অন্ধ, সেদিন হয়তো তারা ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনো মানুষও খুঁজে পাবে না। বিবেকের সেই দংশন তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরবে। আর সাধারণ ও বঞ্চিত সাংবাদিকরা আজ সেই অন্যায়ের বিচার ও বিবেকের তাড়না দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

┌────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
এ বিষয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “হয়তো এত দীর্ঘ সময় পার করার পরও জাতীয়
প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার মতো যোগ্যতা আমি অর্জন করতে পারিনি। এটি আমারই
ব্যর্থতা! কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০১৫ সালে এবং সম্প্রতি গত ১২ মে যারা সদস্যপদ
পেয়েছেন, তারা কোন যোগ্যতায় পেলেন ?”

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে খ্যাত গণমাধ্যমের সম্মান ও
সাংবাদিকদের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সুপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদপ্তর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি। এই
নজিরবিহীন সদস্যপদ বাণিজ্যের পেছনে কারা জড়িত, তা সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে
সামনে আনা প্রয়োজন। একইসঙ্গে, বিগত কয়েক বছরে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ
হওয়া কিছু কথিত সাংবাদিক ও নেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সন্দেহজনক
লাইফস্টাইল বা চালচলন খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা নজরদারির দাবিও
জানিয়েছেন বঞ্চিত সাংবাদিকরা।
└────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

  • শেয়ার করুন