প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬
প্রকাশিত:
স্টাফ রিপোর্টার ঃ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নতুন স্থায়ী সদস্যপদ প্রদান প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।ইতিমধ্য অনেক প্রবীন সাংবাদিক ক্লাবে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে ক্লাবের পক্ষ থেকে ৪৪১ জন নতুন সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে এই তালিকায় সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া এবং চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠে কাজ করা প্রবীণ সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ায় এই নজিরবিহীন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন সদস্যদের তালিকায় অসাংবাদিক, অপেশাদার ও জুনিয়রদের আধিক্য দেখে জাতীয় প্রেস ক্লাবের একাধিক সিনিয়র ও আজীবন সদস্য বর্তমান নির্বাহী কমিটির ওপর তীব্র অসন্তোষ জ্ঞাপন করেছেন। প্রবীণ সদস্যদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের একটি সুনির্দিষ্ট মর্যাদা ও নিয়ম রয়েছে। যোগ্য ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ পেশাদারদের বসিয়ে রেখে সাংবাদিকতা করেন না এমন কিছু মানুষকে সদস্যপদ দেওয়া ক্লাবের গঠনতন্ত্র ও নৈতিকতার পরিপন্থী। নির্বাহী কমিটির এমন পক্ষপাতমূলক ও অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত ক্লাবের দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করেছে বলে তারা মনে করেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে মূলধারার সাংবাদিকতায় সততার সঙ্গে নিয়োজিত থাকা অনেক সিনিয়র পেশাদার সাংবাদিককে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় এমন কিছু জুনিয়র এবং বিতর্কিত ব্যক্তির নাম এসেছে, যারা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সদস্য নন এবং যাদের সরাসরি কোনো সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নেই।
বঞ্চিত সাংবাদিকরা একে “যোগ্যতার চরম অবমাননা” এবং ক্লাবের নির্বাহী কমিটির “বিবেকহীন সিদ্ধান্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নতুন তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বঞ্চিত পেশাদার সাংবাদিকরা ক্লাবের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ক্লাবের বর্তমান কর্তৃপক্ষের কাছে ত্রুটিপূর্ণ তালিকা সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রবল প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বিতর্কিত তালিকা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া বা পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।
বিতর্কের মুখে প্রেস ক্লাব সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও যথাযথ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই এই নতুন সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়েছে। এই নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাব আরও বেশি গতিশীল ও প্রতিনিধিত্বশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।তবে তারা প্রবীন সাংবাদিকদের ধর্য্য ধরতে বলেছেন।
তবে সাধারণ গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, লবিং ও ব্যক্তিগত লেজুড়বৃত্তির কারণে ঐতিহ্যবাহী এই অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের গৌরব ধূলিসাৎ হচ্ছে। সিনিয়র সদস্যদের অসন্তোষকে আমলে নিয়ে অসাংবাদিকদের সদস্যপদ অবিলম্বে বাতিল করে প্রকৃত পেশাদার ও প্রবীণ সাংবাদিকদের তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এসব ব্যাপারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও সভাপতির মতামত চাহিয়া তাদের হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তাঁরা কোন জবাব দেয়নি।