প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬
হুমায়ুন কবির ঃ
প্রেস ক্লাবে দুইটি গ্রুপ, লীগের গ্রুপের নির্বাহী কমিটি হলেও তাদের নিয়ন্ত্রন করতো পিছনের ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এরমত একটি শক্তিশালী গার্ডীয়ান গ্রুপ। বিএনপির নির্বাহী কমিটি যত দিন ছিল তত দিন তাদের পিছনেও একটি বুদ্ধিমান ও বিবেকবান হিম্মতওয়ালা শওকত মাহমুদ, রিয়াজ উদ্দিন, তাহমিনা আকতার, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং সালমা ইসলামের মত গার্ডীয়ান গ্রুপ কাজ করতো। যার ফলে প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য নীতিমালা গঠনতন্ত্র, সুন্দর শৃঙ্খলা বজায় ছিল।
৫ আগস্টের পর লীগের সেই সব তেজী নেতারা রাজনৈতিক একতরফা কাজের সহযোগিতা করার দায়ে ক্লাব থেকে বহিস্কার হয় । যেমন :– সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ফরাজী আজমল (ইত্তেফাক),আনিসুর রহমান (বিএসএস), এনামুল হক চৌধুরী, দিপক কুমার আচার্য, নাঈমুল ইসলাম খান,কুদ্দুস আফ্রাদ, মধুসুধন মন্ডল, মুন্নী সাহা, চৌধুরী,ফারজানা রুপা, অশোক চৌধুরী, শাহজান সরদার, আবুল খায়ের, মঞ্জুরুল ইসলাম ( ডিবিসি), প্রণবসাহা (ডিবিসি), নঈম নিজাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন), খায়রুল আলম (ভারতীয় গোয়ান্দা সংস্থার এজেন্ট ও ডিইউজে নেতা),সাইফুল আলম (যুগান্তর), আবেদ খান, সুভাষ চন্দ্র বাদল, জ,ই মামুন, জাফর ওয়াজেদ (পিআইবি),শাহনাজ সিদ্দিকী (বিএসএস), সাইফুল ইসলাম কল্লোল (বিএসএস), পাভেল রহমান, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ বোরহান কবির, শাবান মাহমুদ, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। এতে আওয়ামী গ্রুপের সদস্যরা ও কমিটি মেরুদন্ডহীন হয়ে পরে।যারা আছেন তাদের মুখে তেমন কোন কথা বলার শক্তি নাই।
অপর দিকে প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি বিএনপির :– শওকত মাহমুদ, তাহমিনা আকতার, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং সালমা ইসলামের সদস্যপদ স্থগিত করে ও বহিষ্কৃার করেন: শামসুল হক দুররানী, আসাদুজ্জামান আসাদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ওবায়দুল হক খান, রাশেদ চৌধুরীকে ও ইলিয়াস খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদ,আমিরুল ইসলাম কাগজী,সরদার ফরিদ আহমদ, খন্দকার মনিরুল আলম, কার্তিক চ্যাটার্জী,শামসুদ্দিন আহমেদ চারু।
প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ১৩(ক) ধারা অনুযায়ী তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রথমে তাদের সদস্যপদ স্থগিত এবং পরবর্তীতে বার্ষিক সাধারণ সভায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। অপর দিকে যারা বিবেকবান ছিলেন তারা ৩/ ৪ জন ক্লাব থেকে বের হয়েছেন সরকারের কর্মচারির দায়ীত্ব পালন করতে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে ক্লাবের,যে যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। বাধা দেয়ারমত কোন লোক ক্লাবে নাই। যারা আছেন তারা সবাই সুবিদাবাদী ও অথর্ব। কারন যে সব নেতাদের বহিস্কার করেছেন তারা থাকলে এরা কোন দিন কোন মাতুব্বরীর দায়িত্ব পেতেন না। বরং এরা থাকতেন ছাগলের চার নাম্বার বাচ্চা। যারফলে কিছু লোভি নিজস্বার্থহীন পরায়ন ব্যাক্তিারা সু-পরিকল্পিতভাবে ন্যায় নীতিবান ও বিএনপি দলের পেশাদার বিবেকবান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা নানান অযুহাত দ্বারা করে ক্লাব থেকে বহিস্কার করেন।অপর দিকে গত ১৭ বছরের জুলুমকারী লীগ সাংবাদিকদের কাছ থেকে টাকা নানান উপহার নিয়ে তাদের পুর্নবাসনের চেষ্টা করছে। অপরদিকে ক্লাব নিয়ন্ত্রনকারীরা উল্লেখিত নেতৃবৃন্দকে ক্লাব থেকে দুড়ে সরিয়ে নিজেরা অপক্ষমতা ব্যবহার করে অপেশাদার, ঠিকাদার, রাজনৈতিক কর্মীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ও মুল্যবান উপহার নিয়ে নতুন সদস্যপদ দিয়েছেন বলে শতাধীক অভিযোগ করেছেন ফেইজবুকে পেশাদার সাংবাদিকগন।কিন্তু যারা এসব করছেন তাদের চোখে কোন লজ্জার পর্দা আছে বা কোন বিবেক আছে বলে মনে হয়না্।তারা লুটছে খাইছে আর দুহাতে অবৈধ পথে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাদের আখের ঘোচাচ্ছে। ওনারা দিব্বি মনের সুখে আনন্দে নিজকে বড় শক্তিশালী নেতা মনে করছেন। কারন ওনারা যাদের সদস্যপদ দিয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে চামচা, দালাল, চাঁদাবাজ, চাটুকার, মিথ্যাবাদী,সাংবাদিক না। ওনারা জানেন যার ফলে ওনাদের ( নেতা ) দেখলেই দৌড়ে যায় , কাছে দাড়িয়ে থাকে গন গন সালাম বিনিময় করে। নেতাজী নিজে মনে করেন উনি অনেক বড় সাংবাদিক নেতা ।ওনার নিয়ন্ত্রনে ওরা ওঠে বসে।আরে ওনাকে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে, কিন্তু যে দিন ওনার গাড়ীতে উঠেছে সেদিন দিয়েছে কত লাখ ওনাকে ? বাকিটাতো সে নিজে রেখে দিয়েছে তার খরচের জন্য।রাখছে কত তা কি উনি জানেন ?? সে কিভাবে চলে ? তার কি কোন ব্যবসা আছ ?, সে কি কোন পত্রিকায় চাকরি করেন ? তার কি কোন রাজনৈতিক পদে আছে ? যাদের জন্য উনি টাকা দিয়েছেন তারা কি সাংবাদিক ? তাদের সদস্য দিলেন কিভাবে ? ক্লাবের কোন বিচিওয়ালা বা নীতিবান সাংবাদিক থাকলে সিসি ক্যামেরা তল্লাসি করেন । বুঝতে পারবেন চিনতে পারবেন কে কি করে।

১৯৫৪ সালে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি দুই বছর পর পর নিয়মিতভাবে এর ১৭ সদস্যবিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের ইতিহাসে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৩৫ থেকে ৩৬টি সাধারণ বা দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই ৩৫ / ৩৬ টি কমিটির মধ্যে নগন্যতম ও দুর্বল এবং নির্বোধ হলো বর্তমান কমিটি। অথচ এই কমিটির লোকজন মনে করেন বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী,, আসলে তারা যে সব চাইতে বোকা।
যার ফলে অন্যায় লুটপাট অগঠনতন্ত্র কাজ ইচ্ছামত করে বেড়াচ্ছে। কারন এদের নিষেধ করারমত বা বাধা দেয়ারমত, এদের ভুল ধরিয়ে দেয়ারমত কোন পেশাদার বিবেকবান বিচিওয়ালা সাংবাদিকগন ক্লাবে নাই। যারা আছেন তাদের কারো পু-লিঙ্গ নেই, তারা সবাই হিজড়া। যে যেখানে পারেন হিম্মত দেখান, মাতুব্বরী দেখান,আবার হিম্মত খাটিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন নানান ছলছতুরি করে অবৈধ পথে অর্থ। কেনা কাটা খাওয়া দাওয়া পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও উন্নয়ন কাজের নাম করে,নতুন সদস্য দেওয়া কর্মচারী নিয়োগসহ সব যায়গায় নয়-ছয় করে লেন দেন হচ্ছে। যা ইচ্ছা তা করে বেড়াচ্ছেন ,কারন কোন গার্ডীয়ান নাই। বড় কথা হলো দুই গ্রুপেরই পিছনে ও সামনে কেহ নাই পুরো ফাঁকা মাঠ। কোন গ্রুপেরই মা-বাবা অর্থাৎ গার্ডীয়ান নাই। সামনে নির্বাচন ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার আনন্দে উল্লাসে মেতে আছেন নতুন প্রার্থীরা।