প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি ঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসন থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে তিনি হয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এই তরুণ নেতা প্রায় ১৮ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার করে আলোচনায় আসেন। মন্ত্রিপরিষদে তার নাম ঘোষণার পর হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভাজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী এলাকার অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন।
১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট হাটহাজারী পৌরসভার মীরের খীল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মীর হেলাল। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পুত্র।
শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করে লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের তালিকাভুক্ত আইনজীবী এবং ‘দ্য লয়ার্স কাউন্সিল’ নামের একটি ল ফার্মের হেড অব চেম্বার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মুনিরকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি বলেন, ‘হাটহাজারী থেকে এবারই প্রথম কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এতে উপজেলাবাসী গর্বিত। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গাজী জাফর আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৫ আসনে রেকর্ড ভোটে জয় পেয়েছেন মীর হেলাল। তিনি একজন সৎ ও দক্ষ আইনজীবী। তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করায় আমরা সন্তুষ্ট।’
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী এই আইনজীবী-রাজনীতিককে ঘিরে হাটহাজারীতে এখন উন্নয়ন প্রত্যাশার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও আইনি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নেও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।