২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ৩:৪৮

শিরোনাম
একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মন্ত্রী নয়, সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই, শামা ওবায়েদ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদা না দেওয়ায় বাবা-মা ও কলেজপড়ুয়া মেয়েকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রাতে কিশোরদের অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ: শিক্ষামন্ত্রী ওসির অ্যাকাউন্টে ৩২ লাখ টাকার লেনদেন, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন: ইসি দ্রব্যমূল্য যেন সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও নবগঠিত মন্ত্রিসভাকে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটির অভিনন্দন

ওসির অ্যাকাউন্টে ৩২ লাখ টাকার লেনদেন, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক  ঃ

রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে তার বিকাশ নগদ হিসাবে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে (01712254***) অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ২০২৫ এর ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন হওয়া এসব টাকার বেশির ভাগই আবার অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে।

ওসির বিকাশ ও নগদ নম্বরে আসা এই অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। যা সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়।

হাতে আসা তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ/নগদের দোকান থেকে (রহিমের দোকান) গত দুই মাসে ওসির মোবাইল নম্বরে এসেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কনস্টেবল আমজাদের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। কনস্টেবল সাদ্দামের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা।

এছাড়া গত দুই মাসে নাসিম (বাড়িওয়ালা) এর নম্বর থেকে এসেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা। মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে এসেছে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এর বাইরে খালেক নামের এক ব্যক্তি ওসির বিকাশ/নগদে পাঠিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা। লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা। আর মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে এসেছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা। পাশাপাশি ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে।

ওসি তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাওয়া এসব টাকা এপিআই (API) সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়াতেও খরচ করেছেন।

সম্পূর্ণ অবৈধ অনলাইন জুয়ার আড়ালে এসব অর্থ দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি/বেসরকারি কর্মকর্তাদের জন‍্যে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের এক উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ওসি ইমাউলকে কল করা হলে অনলাইন জুয়ার বিষয় কোনো ধারণা নেই ও তার মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাউল হক বলেন, তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি এক মাস আগে হ্যাক হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও দাবি করেন।

তবে জিডি নম্বর জানতে চাইলে তিনি সরাসরি থানায় এসে কথা বলার অনুরোধ করেন এবং মোবাইলে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ভাটারা থানার ওসির বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ রওনক আলম জানান, আমরা বিষয়টি দেখেছি। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

  • শেয়ার করুন