প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ঃক্যাডার ও নন-ক্যাডার সদস্যসহ পুলিশ বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকবেন ১ লাখ ৮৭ হাজার সদস্য। তাদের মধ্যে এক লাখ ৫৮ হাজার স্ট্রাইকিং ফোর্স, ভ্রাম্যমাণ ডিউটি ও ভোটকেন্দ্রে থাকবেন। বাকি ২৯ হাজার ‘সাপোর্ট সদস্য’ হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এ হিসাবে পুলিশের ৮৮ দশমিক ২০ শতাংশ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোট উপলক্ষে আজ রোববার থেকে পুলিশ বাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করবে। পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মোট সাত দিন তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের আগের চার দিন, ভোটের দিন ও নির্বাচনের পর দুদিন পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন।
এদিকে নির্বাচনে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বডিওর্ন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনও ব্যবহার করা হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার তথ্য ও ছবি তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে যাবে। এরপর সে অনুযায়ী নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম সমকালকে বলেন, ৬৪ জেলা, ৮টি মহানগরসহ পুলিশের ৭২টি প্রশাসনিক ইউনিট। এর মধ্যে ৩৬টি ইউনিটে সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সভা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য ইউনিটের সমন্বয় সভা হবে। নির্বিঘ্নে ভোট করতে সব বাহিনী প্রস্তুত। কিছু জেলায় ফোর্স কম। অন্য জেলা থেকে বাড়তি ফোর্স পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে বড় ধরনের শঙ্কা দেখছি না।নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য। এছাড়া আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য থাকছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। তাদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আনসার বাহিনীর যারা মোতায়েন থাকবেন গতকাল তারা দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রওনা হয়েছেন। স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য সংখ্যা ১১ হাজার ৯১০।
আনসার বাহিনী সূত্র জানায়, প্রতি কেন্দ্রে ১৩ আনসার সদস্য থাকবেন। তাদের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন সদস্য বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে সুরক্ষা অ্যাপে সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। কেন্দ্রে অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতি হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করবেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, সারাদেশে বাহিনীর ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মাঠে নেমেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি সদস্যরা নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন। দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে।
উপজেলাভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেস্পন্স ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড ইউনিটও থাকছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা দেবে র্যাব। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিটি আসনে কমপক্ষে দুটি টহল দল মোতায়েন ও প্রতিটি ব্যাটালিয়নে দুটি টহল স্ট্রাইকিং রিজার্ভ থাকবে। র্যাব সদরদপ্তরে ১৫টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। দেশব্যাপী স্থাপন করা হবে ২৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প। এছাড়া অন্যান্য স্থানে মোতায়েনের জন্য ৫০টি টহল দল প্রস্তুতসহ দেশব্যাপী মোট ৭০০টির অধিক টহল দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে।
র্যাব গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং নিজস্ব সুইপিং ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ও ডগ স্কোয়াড নিয়োগ করা হবে। র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ সদস্য মাঠে থাকবে। র্যাব ডগ স্কোয়াডের ১০টি দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৮ দিন কোস্টগার্ডের সাড়ে তিন হাজারের বেশি সদস্য, ১০০টি প্লাটুন উপকূলীয় এবং নদীতীরবর্তী দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। এই প্লাটুনগুলো স্থলভাগ ও জলভাগে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকবে।
সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডিওর্ন (পোশাকের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়) ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিমকার্ড যুক্ত থাকবে। ১০ হাজার হাজার অফলাইনে। কোনো ভোটকেন্দ্রে গোলমাল শুরু হলে এসওএস বা জরুরি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। সার্বক্ষণিক লাইভ ছবি ও ভিডিও দেখার ব্যবস্থা আছে। বাকি প্রায় ১০ হাজার ক্যামেরা থাকবে অফলাইন। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরে প্রয়োজনে যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়া ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থা