প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
চকরিয়া প্রতিনিধি ঃ কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কথিত ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার রাতে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া ও হালকাচাপাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর বানু (৫৫)।
সোমবার দুপুরে চকরিয়া থানা মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম ছনুয়াপাড়ার একটি বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। দুর্গম এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরটি ঘেরাও করে পুলিশ। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালকাচাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে শহর বানুকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি দোনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল, একটি শটগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা শটগানের কার্তুজ, দুটি খোসা, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম, ক্লিনিং রড ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে শহর বানুর বসতঘরের পেছনের পুকুর থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় আরও ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাতদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত। চকরিয়া ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
চকরিয়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।