প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬
দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ দিনাজপুরের বিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠেই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি (দিনাজপুর-৬)। তিনি জানিয়েছেন, মিনি স্টেডিয়ামের জন্য বড় মাঠের জায়গাটি চূড়ান্ত করা হবে এবং শিগগিরই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিরামপুরে এসে স্থানটি পরিদর্শন করবেন। ইনশাআল্লাহ, এখানেই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিরামপুর প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ-২০২৬ (বিপিএল সিজন-০৯)-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, “আপনাদের এখানে আমরা মিনি স্টেডিয়ামের জন্য এই জায়গাটাকে চূড়ান্ত করব। কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আসবেন, এসে বিরামপুরের এই জায়গাটি দেখে যাবেন। ইনশাআল্লাহ, এখানেই মিনি স্টেডিয়াম করা হবে, যেখানে সব ধরনের খেলার সুযোগ থাকবে।”
তিনি বিরামপুরে বিপিএল সিজন-০৯-এর মতো বৃহৎ ও সুন্দর ক্রীড়া আয়োজনের প্রশংসা করেন। এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নারী ও মেয়েদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী খেলোয়াড়, আয়োজক, ক্রীড়া সংগঠক ও দর্শকদের উৎসাহিত করেন এবং দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত সেরা দর্শকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন।
পরবর্তীতে বিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠে একটি ঔষধি নিমগাছের চারা রোপণ করেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন। তাঁর গাছের চারা রোপণ ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নানা উদ্যোগের ঘোষণা উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে।
এবারের বিপিএল সিজন-০৯-এ মোট ৮টি দল অংশগ্রহণ করে। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিটি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দেয়। গ্র্যান্ড ফাইনালে পৌঁছায় টুর্নামেন্টের দুই শক্তিশালী দল তানিম স্যানেটারি এন্ড হিরোস অফ এইচএসকে এবং এন আর এ ব্রাদার্স। ফাইনাল উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী আটটি দলকেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শুক্রবার গ্র্যান্ড ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে বিরামপুরে ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ম্যাচের পরবর্তী অংশ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ফাইনাল ম্যাচের বাকি অংশ ও চূড়ান্ত পুরস্কার বিতরণী পর্ব পরবর্তী নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত হবে।
বিপিএল সিজন-০৯ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, ফাইনালের বাকি অংশ ও পরবর্তী পুরস্কার বিতরণের তারিখ ও সময় পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে ফাইনালে অংশ নেওয়া দুই দলকে তাৎক্ষণিকভাবে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। ফাইনালের পরবর্তী অংশ সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দলের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দলকে আরও ২০ হাজার টাকা এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং রানার্সআপ দলকে রানার্সআপ ট্রফি প্রদান করা হবে বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে।
এছাড়া টুর্নামেন্টে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ও নির্বাচিত খেলোয়াড়দেরও ফাইনালের পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হবে।
আয়োজকরা বলেন, বিরামপুর প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ শুধু একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়; এটি স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
মন্ত্রীর মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণায় স্থানীয় খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বড় মাঠে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে বিরামপুরে ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আধুনিক সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।