১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার,রাত ১১:৪৪

শিরোনাম
সাবেক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি রোববার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ, অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী ঢাকায় গ্রেফতার: ডিএমপি মাদ্রাসার শৌচাগারে শিক্ষার্থীর লাশ, শিক্ষক জাকারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে, শুনানিতে উঠে এল নানা তথ্য নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৪২ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতফাইল ছবি রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে (৩৫) তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার অপর এক শিক্ষকের বয়স মামলার এজাহারে ২০ বছর উল্লেখ করা হলেও শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শিশু বিবেচনায় রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ওই রাতেই কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট ওই মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৪ আগস্ট তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ হোসেন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আজ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিহত শিশু ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়ত। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকেরা ওই শিশুর ওপর নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি সে তার মাকে জানালে মা তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে সে আর মাদ্রাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বেলা একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তি শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, ১৩ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে বাথরুমে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে, যা একটি অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। ওই শিশুটি আগেই তার মাকে জানিয়েছিল, সে এই মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। আইনজীবী আরও বলেন, নিহত ছাত্রটি পড়াশোনায় ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল। শিক্ষক তাকে নিজের কাছে ঘুমানোর জন্য বলতেন। মূলত গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালতে শিক্ষক ও নিহতের ভাইয়ের বক্তব্য শুনানিকালে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি জাকারিয়াকে কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান। এ সময় জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা হাফেজ মানুষ, আমরা মারিনি। ঘটনার দিন ওই ছেলে পড়া না পারায় তাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। জোহরের নামাজের আগে সে বাথরুমে যায়। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে ফেরেনি। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আমাদের ছাত্ররা এর সাক্ষী।’ আদালত জাকারিয়াকে মাদ্রাসায় সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না, জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই ছাত্র এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তখন আদালত প্রশ্ন করেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে আপনাদের সিসিটিভি ফুটেজ নেই কেন?’ শুনানির একপর্যায়ে আদালত নিহত শিক্ষার্থীর ছোট ভাইকে ডেকে কথা বলেন। মাদ্রাসায় তাদের মারধর করা হতো কি না, জানতে চাইলে শিশুটি বলে, ‘আমাদের অনেক মারধর করা হতো। ভাইয়ের সাথে বেশি খারাপ ব্যবহার করা হতো।’ কেমন খারাপ ব্যবহার করা হতো, তা জানতে চাইলে শিশুটি আর কোনো উত্তর দেয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর শিক্ষককে শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের বিক্ষোভ আজ আদালতে নিহত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের আদালত থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত স্বজনেরা তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। পুলিশ দ্রুত আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নিহত শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আসামিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন ও আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন। পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি, কখন কী ছিলেন মির্জা ফখরুল মেয়াদ শেষের ১১ মাস আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের নিয়োগ বাতিল রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান আমানতের উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমার সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়ের পেট্রলপাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

প্রতিদিন এক কাপ গ্রিন টি পানের উপকারিতা জানুন

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক ঃ  চা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। নানা ধরনের চায়ের মধ্যে গ্রিন টি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। স্বাদে কিছুটা তেতো হলেও এতে থাকা পলিফেনল, ক্যাটেচিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে গ্রিন টিকে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এটি কোনো জাদুকরী পানীয় নয়; বরং সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি পরিমিত গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।

 

গ্রিন টি কেন আলাদা?

চা পাতাকে অতিরিক্ত অক্সিডাইজ না করেই গ্রিন টি তৈরি করা হয়। ফলে পাতায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান তুলনামূলকভাবে অক্ষুণ্ন থাকে। এর মধ্যে ক্যাটেচিন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন ও ক্যাফেইন শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু গ্রিন টি পান করে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

গ্রিন টির পলিফেনল ও ক্যাটেচিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

হৃদ্স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য উপকার

গ্রিন টিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করলে কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির ওপর কিছু ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা

গ্রিন টির পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে গ্রিন টি ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে—এমন নিশ্চিত দাবি করার মতো প্রমাণ নেই।

মানসিক স্বস্তিতে ভূমিকা

গ্রিন টিতে থাকা এল-থিয়ানিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড মস্তিষ্ক ও শরীরে শিথিলতার অনুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যাফেইনের সঙ্গে এর সমন্বয় মনোযোগ ও মানসিক সতর্কতাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নারীদের হরমোন মাসিক চক্র

গ্রিন টি নারীদের হরমোনের ভারসাম্য বা মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এ ধরনের সমস্যায় গ্রিন টিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক

গ্রিন টির বেশিরভাগ অংশই পানি, তাই এটি দৈনিক তরল গ্রহণের অংশ হতে পারে। তবে এতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান না করাই ভালো।

সব মিলিয়ে, পরিমিত গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে। তবে কোনো রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র উপায় হিসেবে এর ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

  • শেয়ার করুন