১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,সকাল ১০:০৯

ফ্রিজে প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রাখা কেন ঝুঁকিপূর্ণ, জেনে নিন

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক ঃ

প্রতীকী ছবি।

প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা বাসি খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করার বিষয়ে ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে চালানো বিভিন্ন গবেষণা ও সতর্কবার্তায় বলা হচ্ছে, অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং বারবার গরম করার ফলে প্লাস্টিকের পাত্রের কার্যকারিতা বা স্থায়িত্ব কমে যায়, যা খাবারকে দূষিত করে তুলতে পারে।

প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার ফ্রিজিং বা হিমায়িত করার ফলে খাবার থেকে ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিক (প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা) নির্গত হতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

আমরা সাধারণত মনে করি কেবল মাইক্রোওয়েভ বা অতিরিক্ত তাপে প্লাস্টিক নষ্ট হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ঠাণ্ডাও প্লাস্টিকের জন্য সমান ক্ষতিকর। এই যেমন, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে বা বারবার খাবার গরম করা হলে প্লাস্টিকের পাত্রগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্লাস্টিকের গঠন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি এর অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো (মাইক্রোপ্লাস্টিক) ভেতরে থাকা খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। পরবর্তীতে সেই খাবার খাওয়ার মাধ্যমে কণাগুলো মানবদেহে প্রবেশ করে।

পরিবেশের ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা সবার জানা থাকলেও, মানুষের শরীরে এর প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো বিশদ গবেষণা চালাচ্ছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইতোমধ্যেই মানুষের শরীরের বেশ কিছু সংবেদনশীল অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে- রক্ত ও ফুসফুস, গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) এবং মায়ের বুকের দুধ।

বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে ন্যানোপ্লাস্টিক নিয়েও সতর্ক করেছেন। এগুলো মাইক্রোপ্লাস্টিকের চেয়েও আকারে অনেক ছোট, যা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমেও পৌঁছে যেতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, এর ফলে ভবিষ্যতে স্নায়বিক বা নিউরোলজিক্যাল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, যদিও এই বিষয়ে এখনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ 

ভোক্তা অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংস্থা ‘কনজিউমার রাইটস ইনস্টিটিউট’ ফ্রিজে বাসি খাবার সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে বিকল্প এবং নিরাপদ কিছু উপাদান ব্যবহারের জোর সুপারিশ করেছে:

কাচের পাত্র: কাচ চরম তাপমাত্রায় অত্যন্ত স্থিতিশীল থাকে। ফ্রিজিং বা গরম করার সময় এটি থেকে কোনো ক্ষতিকর কণা খাবারে মেশার সুযোগ থাকে না।

স্টেইনলেস স্টিল: স্টিলের পাত্র অত্যন্ত টেকসই এবং ফ্রিজারের অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় এর কোনো গুণগত পরিবর্তন হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপাদানগুলো দীর্ঘস্থায়ী এবং এগুলো ব্যবহারে খাবার সংরক্ষণ বা পুনরায় গরম করার সময় কোনো ক্ষতিকারক কণা খাবারে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সুস্থ থাকার স্বার্থে দৈনন্দিন জীবনযাপনে তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে এনে এসব পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

 

  • শেয়ার করুন