প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬
প্রকাশিত:
এম এ হালিম ঢালী ঃদেশের সচেতন মানুষ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই প্রথম সমাজ এবং দেশ-বিদেশের খবর জানার জন্য উদ্বগ্রিব হয়ে থাকে। তাই হাতের কাছে পত্রিকা খুজতে থাকেন। অনেকে রিমোট হাতে নিয়ে টিভি চ্যানেল কিম্বা মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবসহ নানাবিধ অপশন গুলোতে ঢুকে সমাজ ও দেশ-বিদেশের সংবাদ এবং বিনোদন মুলুক অনুষ্ঠান দেখতে ব্যস্ত হয়ে পরেন।
মিডিয়া ছাড়া গোটা বিশ্বই অচল।
তাই মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
এই মিডিয়া সচল রাখেন সাংবাদিক বা মিডিয়া কর্মীরাই।
এই মিডিয়া কর্মীরাই জাতির বিবেক এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ।
তাই রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।
প্রতিটি গণমাধ্যম কর্মী ও সাংবাদিকেরা একেকটা যোদ্ধা। তারা গোটা বিশ্বের সভ্যতা রক্ষার লড়াইয়ে সৈনিকদেরমত যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। ঠিক যেনো সৈনিক। পুলিশ ২৪ ঘন্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকায় পোশাক পরে এবং অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রস্তুত থাকে। কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলেই সেখানে ঝাপিয়ে পড়ে। চোর-ডাকাত, ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক সন্ত্রাসী, খুনি, জঙ্গি ও দুর্নীতিবাজসহ সমাজের সকল প্রকার অপরাধীদের ধরতে ব্যস্ত থাকে। সেখানেও সাংবাদিকদের ভুমিকা থাকে পুলিশ।
এছাড়াও আইনি বা বেআইনি সভা-সমাবেশে গোলযোগ দেখা দিলে পুলিশি একশান শুরু হয়। বেআইনি সভা-সমাবেশের জনতাকে সরাতে এবং সরকারি সম্পদসহ জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। কখনো কখনো শুরু হয় জনতার উপর লাঠি চার্জ এবং পানি ঢালা ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ। অবস্থার ভয়ংকর রূপ নিলে বা অবনতি ঘটলে চালাতে হয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে গুলি। এতে অনেকে আহত ও নিহত হন। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আহত বা নিহত হন। সেখানেও থাকে সাংবাদিকদের বড় ভুমিকা। গোলযোগ পুর্ণ পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক ও চিত্র ধারণকারী ফটো সাংবাদিকেরাও আহত ও নিহত হন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন। বলতে গেলে তারাও যোদ্ধা।
এই সাংবাদিকেরা দেশের অনিয়ম দুর্নীতি, চোরাকারবারি, মাদক সন্ত্রাসী, চুরি-ডাকাত, ছিনতাই, খুন-খারাবি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, জাল-জালিয়াতি, ঘুষ কেলেংকারী, অগ্নিসংযোগ, ও অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধীদের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হন। এমনকি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে অনেক সাংবাদিক আহত এবং নিহতও হন।
এসব অপরাধীদের হাত থেকে সাংবাদিকদের রক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের ভুমিকা ছাড়া দেশের অপরাধ দমন একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধ দমনে জনগণকে এগিয়ে আসার পথ খোলাসা করতে সরকারেরও ভুমিকা অপরিসীম। অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের ভয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা করতে জনগণ এগিয়ে আসে না। এ ভয় কাটিয়ে উঠার জন্য সরকার কর্তৃক জনসচেতনতা ও প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর সাথেও আমাদের বীর সাংবাদিকেরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সাথে গোলাগুলির মধ্যেও সাংবাদিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন।
সীমান্তে কি হচ্ছে না হচ্ছে সকল সংবাদের আপডেট দেন এই গণমাধ্যম কর্মীরা।
দেশ রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী, অর্থাৎ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর যুদ্ধকালীন সকল খবরাখবরও সাহসী এই সাংবাদিকেরাই সংগ্রহ করেন।
যুদ্ধাবস্থায় উভয় পক্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক আহত ও নিহত হয়েছেন।
এরপরেও সাংবাদিকেরা থেমে থাকেন না।
গোটা বিশ্বের যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করেন সাংবাদিকেরা রণক্ষেত্রের একদম সামনে গিয়ে।
যুদ্ধ ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা জীবন রক্ষার জন্য বুলেটপ্রুফ প্রেস ভেস্ট (Press Vest) জেকেট পড়েন। মাথা সুরক্ষার জন্য ব্যালেস্টিক হেলমেট (Ballistic Helmet) পড়েন।
জেকেটের গায়ে সামনে ও পিছনে বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকে ‘প্রেস’ বা ‘মিডিয়া’।
পায়ে পড়েন মজবুত ওয়াকিং বুট।
সামরিক পোশাকের সাথে বিভ্রান্তি এড়াতে তারা সাধারণত নিরপেক্ষ রঙের (যেমন নীল বা গাঢ় রঙের) পোশাক পড়েন। যা তাদের বেসামরিক হিসেবে পরিচয় বহন করে।
এতেই প্রমাণ করে সাংবাদিকতা করতোটা ঝুঁকিপুর্ণ।
অথচ এই সাংবাদিকদেরই আমাদের দেশের সরকার সুরক্ষা দিতে সম্পুর্ন ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
আমাদের দেশের একশ্রেণির অবিবেচক মানুষ সাংবাদিকদের মানুষই মনে করেন না।
তারা সাংবাদিক দেখলেই নানা কুরুচিপূর্ণ আচরণসহ টল করেন।
অনেক শিক্ষিত ও উঁচু মাপের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী ও সমাজের বিক্ষিপ্ত এবং অপরাধ জগতের বাসিন্দাদের দ্বারা সাংবাদিকেরা মারধরের শিকারসহ নিপীড়িত, অপমানিত ও লাঞ্চিত হয় প্রতিনিয়ত।
যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই সাংবাদিক বা মিডিয়া কর্মীদের সুরক্ষা দিতে না পারলে গণতন্ত্র পড়বে হুমকির মুখে।