প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সাজানো জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সব অসার ও বানোয়াট অভিযোগের অবসান ঘটেছে। দীর্ঘ, নিবিড় অনুসন্ধান ও নথি পর্যালোচনার পর কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ সম্পদের উপস্থিতি না পাওয়ায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে আইনি প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি টেনেছে দেশের দুর্নীতিবিরোধী সর্বোচ্চ সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক স্মারকে (স্মারক নম্বর: ০০.০১.০০০০.০০০.৫০১.০১.০০ ৩৭.১৭.১৫) নিশ্চিত করা হয় যে, আনীত অভিযোগসমূহ বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত ও প্রমাণের কষ্টিপাথরে অকাট্যভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী এসংক্রান্ত অনুসন্ধান নথিভুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে তা পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনৈতিক সিন্ডিকেটের চক্রান্ত ও চরিত্র হননের অপচেষ্টা
বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন ক্যাপিটাল ড্রেজিং, নৌপথ উন্নয়ন এবং বন্দর অবকাঠামো সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সততা, পেশাদারিত্ব ও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধ, টেন্ডার বা সরকারি কাজের প্রক্রিয়ায় অনৈতিক চাপ ও অসাধু চক্রের আবদার প্রত্যাখ্যান করার কারণে একটি নির্দিষ্ট সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট তাঁর ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
পরবর্তীকালে এই স্বার্থান্বেষী মহলটি সাইদুর রহমানের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং তাঁকে মানসিকভাবে পদানত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিকৃত করে কিছু ভুঁইফোড় ও নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার মাধ্যমে মনগড়া ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করায়। কোনো প্রকার তথ্য যাচাই বা দাপ্তরিক সত্যতা ছাড়াই এসব সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
প্রশাসনিক অঙ্গনে ক্ষোভ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার তাগিদ
বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র অন্যান্য কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে একা কোনো কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না; প্রতিটি কাজ নির্ধারিত বিধিমালা, যাচাই কমিটি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তথ্য যাচাই-বাছাই না করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো মন্তব্য না নিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাকে অহেতুক সামাজিকভাবে হেয় করা হলে সরকারি কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজ করার মানসিকতা নষ্ট হয়।”
সত্যের পুনর্বাসন ও প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের প্রতিক্রিয়া
দুদকের এই চূড়ান্ত আদেশের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও সামাজিক অবস্থান পুনর্বাসিত হওয়ার পর আবেগঘন অথচ দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন:
”আমার কর্মজীবনের মূল দর্শন ছিল প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষা করা এবং কোনো অনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত না করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার যে নীতি আমি ধারণ করেছি, তার খেসারত দিতে গিয়েই অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু আমি বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থা ও সততার শক্তির ওপর আস্থা রেখেছিলাম। দুদকের অনুসন্ধান ও রায় প্রমাণ করেছে—ষড়যন্ত্রের অন্ধকার সাময়িক হতে পারে, কিন্তু সত্যের আলোকে কখনো ঢেকে রাখা যায় না।”
তিনি আরও আহ্বান জানান, সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকদের উচিত কোনো মহল বিশেষের সরবরাহ করা গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নথি ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা।
প্রশাসনিক বার্তা
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিআইডব্লিউটিএ’র এই কর্মকর্তার পক্ষে দুদকের সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত রায় কেবল সাইদুর রহমানের ব্যক্তিসততার স্বীকৃতিই নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অসাধু চক্রের হয়রানিমূলক কৌশলের বিরুদ্ধে এক কড়া আইনি ও প্রশাসনিক জবাব।