প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত ও জটিল হয়ে পড়লেও তাকে সেই অর্থের সমপরিমাণ প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
আয়কর আইনের অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদের বিধান প্রয়োগ করে এই জরিমানা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকতের বিদেশে থাকা সম্পদের সমমূল্যের অর্থ দেশেই আদায়ের আইনি পথ তৈরি হয়েছে।
বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) চলতি বছরের ১৫ মার্চ শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই জরিমানার আদেশ দেয়। ওই দিনের ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে এলটিইউ।
আয়কর আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি করদাতার আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত নয় এমন বিদেশি সম্পদের সন্ধান মিললে এবং তিনি সেই সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে, ওই সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করা যায়।
জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে করদাতার সম্পদ বিক্রি বা বাজেয়াপ্ত করেও তা আদায়ের ক্ষমতা রয়েছে আয়কর কর্তৃপক্ষের।
এই অপ্রদর্শিত অর্থের বিপরীতে চলতি বছরের মে মাসে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছেন শওকত। তবে জরিমানার অর্থ এখনো পরিশোধ করেননি বলে জানিয়েছেন এলটিইউ কর্মকর্তারা।
এই জরিমানা এমন সময় এল, যখন যুক্তরাজ্যে শনাক্ত শওকত আলী চৌধুরীর ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা টাইমসকে জানান, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) অর্থ ফেরতের আগে প্রমাণ চেয়েছিল যে অর্থটি শুধু বাংলাদেশের আইনেই নয়, যুক্তরাজ্যের আইনেও অবৈধভাবে অর্জিত।