১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার,রাত ২:৫৭

শিরোনাম
ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর মোজাফফর আটক বন্দরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন জুলাই শহীদ দিবসে কালিগঞ্জে দোয়া ও আলোচনা, চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট, চট্টগ্রামে ৮ কুখ্যাত গ্রেপ্তার বন্দরে জুলাই শহীদ দিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (WCCU) জাতীয় পর্যায়ে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ অর্জন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ

ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

জেলা প্রতিবেদক ঃ প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ক বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আজ ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আবু সাঈদ শহীদ হন, একে একে মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য মানুষ শহীদ হন। তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল যে, একটি সরকার নিজ দেশের জনগণের ওপর গুলি চালিয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন, বিদ্রোহ ও বহু রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারের শিরোমনি শেখ হাসিনার পতন ঘটে এবং এর মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের নতুন সূচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। গত ১৭ বছরে যে জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন ও নিপীড়ন হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি বিএনপি করবে না। আমরা প্রতিশোধ নেব উন্নয়ন, সুশাসন ও মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে। অন্ধকারের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা আলোকিত রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরে যেতে চাই না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উন্নয়ন ও সহায়তা বিতরণ-সংক্রান্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমানো, কৃষির উন্নয়ন এবং মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কল্যাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাস দায়িত্বে রয়েছে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঝালকাঠির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ঝালকাঠি একটি সমৃদ্ধ জেলা ছিলো। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে একটি আলোকিত ঝালকাঠি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, ঝালকাঠিতে দেশের প্রথম ‘কালচারাল ভিলেজ’ বা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নান্দনিকভাবে তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া ঝালকাঠিতে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে এবং এটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই কমপ্লেক্স নির্মিত হলে তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে, তারা মাদক থেকে দূরে থাকবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবে। পাশাপাশি এখানে প্রশিক্ষক নিয়োগসহ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, অতীতে ঝালকাঠির উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পিরোজপুরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় জেলা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখন ঝালকাঠির জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জেলার গ্রামগঞ্জে সড়ক, কাঁচা রাস্তা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।

গাবখান চ্যানেলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী কৃত্তিম নৌপথ, যা সুয়েজ খালের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এর সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কেওড়া ইউনিয়নের সারেঙ্গল বাজার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বাজার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালকে দ্রুত ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে ঝালকাঠিতে ৩০ হাজার গাছ রোপণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ঝালকাঠি’ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঝালকাঠি গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না, সিভিল সার্জন ডা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ আরও অনেকে।

সভা শেষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ, কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

 

 

 

  • শেয়ার করুন