প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬
জেলা প্রতিবেদক ঃ

চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো ২৭ অস্ত্রধারী এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এসব অস্ত্রধারীর সবাই যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মী। প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, শটগান ও কাটা বন্দুক। এক বছর পার হলেও হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলির ২/৩ টি উদ্ধার করলেও বেশিরভাগ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানান।
১৬ ও ১৮ জুলাই এবং ৪ আগস্ট ২০২৪ চট্টগ্রাম নগরে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার সঙ্গে যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এ সময় নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়েন যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা। পরে এসব ঘটনার ভিডিও-ছবি বিশ্লেষণ করে পুলিশ ৪৬ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৯ জনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-পুলিশ।
ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে দেখা যায়, নগরের মুরাদপুর এলাকায় ১৬ জুলাই ২০২৪, পিস্তল হাতে ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। কাটাবন্দুক হাতে ছিলেন যুবলীগ নেতা পরিচয় দেওয়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. ফিরোজ। তিনি নিজেকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী পরিচয় দেন। তবে কোনো পদে নেই। শটগান হাতে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠক মো. দেলোয়ারকে দেখা যায়। পিস্তল হাতে দেখা যায় যুবলীগ কর্মী এন এইচ মিঠু ও মো. জাফরকে। মিঠু ও জাফর নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নুরুল আজিম নিজেও মুরাদপুরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অস্ত্রগুলো হাতবদল হওয়ায় উদ্ধারে সময় লাগছে। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এসব অস্ত্রধারীর মধ্যে শুধু ফিরোজকে গত বছরের ২৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে র্যাব, অন্যরা ধরা পড়েননি। পলাতক এসব অস্ত্রধারীর মধ্যে হেলাল উদ্দিন চৌধুরীসহ বেশ কজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সরব। মুরাদপুরে গুলিবর্ষণকারীদের মধ্যে আহনাফ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী এবং চকবাজার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিঠুন চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় তাঁদের হাতে পিস্তল দেখা গেলেও তা উদ্ধার করা যায়নি।
নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় ১৮ জুলাই পিস্তল হাতে দেখা যায় চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিন ফরহাদ, যুবলীগ কর্মী মো. জালাল ওরফে ড্রিল জালাল, মো. জামাল, ঋভু মজুমদার ও মো. মিজানকে। শটগান হাতে ছিলেন যুবলীগ কর্মী মো. তৌহিদ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, অস্ত্রধারীরা সবাই নগরের ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর মো. এসরালের অনুসারী। আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এসরাল। এর মধ্যে তৌহিদুল, মিজান, জামাল ও ঋভু মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি ওয়ান শুটারগান নিয়ে তৌহিদুল একাই ছাত্র-জনতার ওপর ২৮টি গুলি চালিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মীকে। গত বছরের ১৬ জুলাই নগরের মুরাদপুরে ছবি দেওয়া হলো।
এদিকে গত বছরের ৪ আগস্ট নগরের নিউমার্কেট, সিআরবি, আসকার দিঘির পাড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ, যুবলীগের সংঘর্ষে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। মুখে মাস্ক, হাতে শটগান নিয়ে গুলি করেছেন মো. শামীম। যুবলীগ ক্যাডার হিসেবে নগরে পরিচিত তিনি। সেদিন সিআরবি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাইফুল ইসলাম ও মো. হাসান নামের দুই আন্দোলনকারী। প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করেছেন মোস্তফা কামাল ও ইকবাল হোসেন নামের দুজনও। তাঁরা সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম ওরফে বাহাদুরের অনুসারী।
একই দিন নগরের জামাল খান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের নেতৃত্বে বেলা ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে নগরের আসকার দিঘির পাড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিতে দেখা গেছে। ওই সময় তাঁর পাশে থাকা এক যুবককে শটগান হাতে দেখা যায়। তাঁর নাম ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে রিন্টু। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক উপসমাজসেবা–বিষয়ক সম্পাদক। একই সময়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা আরেকজনকে অস্ত্র কোমরে গুঁজতে দেখা যায়। তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। এসব অস্ত্রধারীর কেউই গ্রেপ্তার হননি।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বলেন অস্ত্রগুলো হাতবদল হওয়ায় উদ্ধারে সময় লাগছে। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় চট্টগ্রামে থানায় ৬৯টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা। এসব মামলায় মোট আসামি ২১ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৭ হাজার ২২৬ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আসামি ১৪ হাজার ৬৮০ জন। ১৫ জুলাই পর্যন্ত আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজার ২০১ জন। আসামির বিপরীতে গ্রেপ্তার ৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত কেবল একটি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। ( উল্লেখিত অস্রদাতাদের পিছনের মদদদাতার ( অর্থ দাতা ) বেশির ভাগই ছিলেন রেলওয়ের বড় কর্মকর্তারা ) বর্ননা সামনে …..