প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ঃ

বিতর্কিত বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিমের জন্য কয়েক লক্ষ টাকার প্রীতিভোজ ও উপহারের মহোৎসব ;
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনবিভাগে দীর্ঘ সময় ধরে দাপট দেখানো এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের বিদায় ঘিরে এখন চলছে এক এলাহী আয়োজন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ আদেশে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ২রা এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গতকাল ১লা এপ্রিল নবাগত সিএফ মিহির কুমার দো-এর নিকট দায়িত্বভার হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে তার প্রস্থানকে ঘিরে কোনো অনুশোচনা বা সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক বিলাস বহুল এবং বিতর্কিত বিদায় অনুষ্ঠানের মহোৎসব আয়োজন করা হয়েছে যা বর্তমানে বনবিভাগের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তাকে রাজকীয় বিদায় দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন তার বিশ্বস্ত ও সুবিধাভোগী কয়েকজন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। এই বিদায় অনুষ্ঠান সফল করতে মূল হোতা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও মোহাম্মদ সোহেল রানা, বান্দরবান প্লান্টেশন ডিভিশনের আবু ইউসুফ এবং উপকূলীয় বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এম এ হাসানের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদায়ী উপহার হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান সামগ্রী কেনা এবং প্রায় দুই শতাধিক মানুষের ভূরিভোজের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা। অবাক করার মতো তথ্য হলো, এই বিশাল অংকের টাকার যোগান দেওয়ার জন্য বিভিন্ন রেঞ্জ ও স্টেশন কর্মকর্তাদের ওপর অলিখিত চাঁদা বা কোটা ধার্য করা হয়েছে। টাকা সংগ্রহের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ বন বিভাগের শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা জাকারিয়া, সিএফ এর রেঞ্জার আব্দুল গফুর মোল্লা, উত্তর বন বিভাগের রেঞ্জার বাচ্চু মিয়া, বান্দরবানের সাইফুল ইসলাম, লামার কে এম কবির উদ্দিন, এবং ধূমঘাট স্টেশনের এস ও শামীম রেজা এবং ফরেস্ট গার্ড নাছিরুল আলমসহ বেশ কয়েকজন অধস্তন কর্মচারীকে।
মাঠ পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের ওপর চাপের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে মূলত সাজানো হচ্ছে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার বিদায়ের জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ। সাধারণ বনকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে যে, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ বিদ্যমান, তাকে সরকারি প্রটোকলের বাইরে গিয়ে এমন আলিশান বিদায় দেওয়া কেবল নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধই নয়, বরং প্রশাসনের স্বচ্ছতাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। অথচ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও পুরো অবৈধ চক্র এখন ব্যস্ত এই বিদায় অনুষ্ঠানের কেনাকাটা ও আপ্যায়নের মহা- মহড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত এক বিতর্কিত অধ্যায়ের আড়ম্বরপূর্ণ সমাপ্তি হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
এই ব্যাপারে মোল্ল্যা রেজাউল করিমের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।