৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ২:০৬

শিরোনাম
শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি—সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান: মোঃ আবু ইউসুফ বন্দরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসুচি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রগঠনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের দুর্নীতির বরপুত্র মোল্ল্যা রেজাউলের রাজকীয় বিদায় বন্দরে ট্রলার চালক কে পিটিয়ে আহত, থানায় অভিযোগ বিএনপি-সমর্থিত পেশাদার ও সিনিয়র সাংবাদিকগন হৃদয়ের মাঝে চিতার আগুনের মত জ্বলে পুরে মরছে আসিফ মাহমুদের সেই এপিএসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বগুড়ায় অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, নকল স্ট্যাম্পসহ গ্রেপ্তার ৩ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম

বন্দরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসুচি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মাহফুজ জাহিদ :

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার জন্য ৪ এপ্রিল ইতিহাসে এক কলঙ্কিত ও শোকাবহ দিন।এ দিন বন্দর গণহত্যা দিবস । ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্থানীয় আলবদর, রাজাকার ও বিহারিদের সহায়তায় মেতে উঠেছিল এক পৈশাচিক ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞে। ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি মনে করে আজও শিউরে ওঠেন বন্দরবাসী।

একাত্তরের এই দিনে ভোরের আলো ফোটার আগেই স্থানীয় দোসরদের যোগসাজশে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে বন্দরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সেনারা। গ্রামজুড়ে ধ্বংসলীলা চালিয়ে তারা জ্বালিয়ে দেয় একের পর এক ঘরবাড়ি। এরপর বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৫৪ জন নিরপরাধ হিন্দু-মুসলিম গ্রামবাসীকে ধরে আনা হয় ঐতিহাসিক সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠে।

সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের ওপর চালানো হয় নির্বিচার ব্রাশফায়ার। প্রত্যক্ষদর্শী কাজী শহীদের বয়ানে উঠে আসে সেই নারকীয় দৃশ্যের বর্ণনা। তিনি জানান, ঘাতকদের গুলিতে মুহূর্তেই নিথর হয়ে যায় অনেক প্রাণ, কেউবা গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে ওঠে মাঠের সবুজ ঘাস।

নৃশংসতা সেখানেই থেমে থাকেনি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে এবং প্রমাণ লোপাট করতে ঘাতকেরা আশপাশের গ্রাম থেকে বাঁশের বেড়া সংগ্রহ করে লাশের ওপর স্তূপ করে দেয়। এরপর গান পাউডার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় ৫৪টি মানবদেহ। মরদেহগুলো এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৫ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে ২০০১ সালে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠে নির্মাণ করা হয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও স্বজনহারাদের কান্না আজও থামেনি।

আজ  শনিবার  (৪ এপ্রিল) দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও শহীদ পরিবারের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ,আলোচনা সভা, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনা।

বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে বন্দরের এই ৫৪ জন বীর সন্তানের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

  • শেয়ার করুন