প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬
হিমু :
বিএনপি–সমর্থিত পেশাদার ও সিনিয়র সাংবাদিকগন হৃদয়ের মাঝে চিতার আগুনের মত জ্বলে পুরে মরছে। আর অপেশাদার কিছু সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সদস্য হয়ে তারা আনন্দে – উল্লাসে ভাসছে । হায়রে আমাদের সাংবাদিক সমাজ বা সাংবাদিক জগৎ।হায়রে আমাদের সাংবাদিক নেতাদের বিবেক !!! নেতাদের লুকোচুরি খেলায় পেশাদার ও সিনিয়র সাংবাদিকগন সদস্য পদ থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে।

বিএনপি-সমর্থিত সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় প্রেস ক্লাব মূলত ১৯৭৭ সাল থেকে দীর্ঘ সময়, বিশেষ করে ১৯৯১ সাল থেকে পরবর্তী বিভিন্ন মেয়াদে আধিপত্য বজায় রেখেছিল । ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সমর্থক গোষ্ঠী প্রেস ক্লাবের প্রায় ৯০% নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। এছাড়া, ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়েও প্রেস ক্লাবে তাদের শক্ত অবস্থান ছিল।তখন ও বিএনপি-সমর্থিত সাংবাদিকদের উপর খরার গা ছিল। যার ফলে বিএনপি-সমর্থিত সাংবাদিকদের সংখ্যা কম ছিল । যার ফলে আওয়ামীলীগ সরকার আসার পর তাদের নিয়ন্ত্রনে প্রেসক্লাব নিয়েই বঞ্চিত বিগত বছরের সকলকে সদস্য পদ দিয়ে দিল । বিএনপি-সমর্থিত সাংবাদিকদের সংখ্যা তাদের অপেক্ষায় শুন্যের কোটায় পরলো। এখন আবার বিএনপি-সমর্থিত সাংবাদিক নেতারা পুর্বের চাল চালছেন।
দেখা যায় বিএনপি সমর্থিত সাংবাদিকগন যখনই নিয়ন্ত্রনে থাকেন তখনই বিএনপি সমর্থিত সাংবাদিকগন অবহেলিত হয়ে পরেন। তখনই তাদের উপর নানান ধরনের নিয়ম নীতিমালা ও নানান ধারা প্রকাশ হয়। সাংবাদিকদের সদস্যপদ , চলাচল, বসা, নিয়ে ডজন খানেক নীতি দ্বারা করিয়ে সিনিয়র , সভ্য, ও পেশাদার সাংবাদিকদের স্তম্ব বা একটা যায়গায় থামিয়ে দেয়া হয়। পেশাদার সাংবাদিকগন তাদের হৃদয়ের মাঝে চিতার আগুন নিয়ে আস্তে আস্তে নিস্ব হয়ে যায়। তবুও তারা তাদের পেশা নিয়ে কর্মব্যস্ত বেশি থাকেন। মুখ বুঝে নিরবে সহ্য করেন। আর নেতারা ক্লাবে বন্ধুজন নিয়ে প্রবেশ করেন , আড্ডা দেন , খাওয়া-দাওয়া করেন আনন্দে- হাসিতে ভরপুর থাকেন।তাদের কি মনে পরে না বিবেক তাদের হৃদয়ে সজাগ করে না যে তোমাদেরই সাংবাদিকরা বাহিরে ঘোরে ফেরে, মন স্থীর করে বসারমতও যায়গা পায় না ???তাদের সদস্য পদ দেই। এই প্রতিষ্ঠানের তারাও অধিকারী। কিছু এগুয়ামী ও দলীয় রেসারেসির জন্য ভালো ভালো সাংবাদিকগন সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত। অনেক সময় পেশাদার ৩০ / ৪০ বছরের সাংবাদিকদের কপালে ক্লাবে এক গ্লাস পানি খাওয়ার বা ১০ মিনিট বসার স্থান ও জোটে না। কিছু অপেশাদার সাংবাদিকগন সদস্য হয়ে তারা দল পাকিয়ে তারা বন্ধুদের নিয়ে পুরো টেবিল দখল করে বসেন, আনন্দে উল্লাসে নাস্তা করেন, খাবার খান। অপর দিকে সিনিয়র সাংবাদিকগন অনেক সময় বিশ্রামের জন্য ১০ মিনিট বসার স্থানও পায় না।ঐসব সদস্যগন পেশাদার সাংবাদিকদের তারা তুচ্ছ ও সাংবাদিকই মনে করেন না বলে টিটও করেন। তাদের মুখে শোনা যায় বলেন ওনারা কিসের সাংবাদিক । অথচ তাদের একইঞ্চি নিউজ লেখতে দেন,দেখবেন ক্ষমতা নেই,কিন্তু তারা সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিক সদস্য ও নেতা। তারা সাংবাদিক সমাজে বড় সাংবাদিক, তারা ইউনিয়নের ও ক্লাবের সদস্য। হায়রে সাংবাদিক নেতাদের বিবেক !!!