৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ২:০৩

শিরোনাম

ফাসিয়াখালী রেঞ্জ অফিসার সাদেকুর রহমানের মদদেই হাতিকে হত্যা করে গুম করার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে !

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদক :- কক্সবাজারের চকরিয়ায় ফাসিয়াখালী রেঞ্জের অধীনে একটি বন্যহাতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ গুম করার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।নেপথ্যে ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দুর্গম বনাঞ্চলে আনুমানিক ১০ বছর বয়সী হাতিটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সুকৌশলে তার ওপর একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল যা মূলত সাদেকুর রহমানের মদদেই হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিতর্কিত বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিমের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই সাদেকুর রহমান ওই নির্দিষ্ট স্থানে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দিতে কিছুদিন আগে ৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন আর এই ঘুষের বিনিময়ে বনের গভীরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য তৈরি করে দেওয়াই কাল হয়ে দাঁড়ায় নিরীহ হাতিটির জন্য।

 

গত ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার দুর্গন্ধের সূত্র ধরে অন্য রেঞ্জের বনবিভাগের টহলের লোকজনের সূত্রে ও পুলিশ ওই ঘরটির নিচ থেকে হাতিটির পচা মরদেহ উদ্ধার করে।সিনিয়র বন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী হাতিটিকে গুলি করে অথবা বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায় নেপথ্যে থেকে ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান। নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দেওয়া অবৈধ ঘরের অস্তিত্ব রক্ষা করতে তিনি হাতি হত্যার এই ভয়াবহ জালিয়াতি ও মরদেহ গুমের বিষয়টি দপ্তরের কেহ  না জানে সে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরায় ব্যাপারটি আলোড়ন সৃষ্টি করে। যার ফলে এখন জনসম্মুক্ষে উন্মোচিত হওয়ায় গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থল স্তন্যপায়ী প্রাণী একটা হাতি মেরে ফেলে মাটির নিচে গুম করে রাখা হয়েছিল মাসখানেক ! ভাবা যায় ৫/৬ হাজার কেজি ওজনের, প্রায় ৭০থেকে ৮০ জন মানুষের ওজনের সমান একটা হাতিকে এভাবে গুম করে রাখা হয়েছে, আর কেউ টেরই পায়নি !

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মুসলিম নগর ও করিম্মাকাটার ঘোনা সংলগ্ন বনভূমিতে এই ঘটনা। হাতিটাকে হত্যা করার পর গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এতেই থামেনি, ঘটনাটা আড়াল করতে সেই জায়গার ওপর একটা কাঁচা ঘর বানিয়ে মেঝে লেপে দেওয়া হয়, যেন কেউ কিছু বুঝতেই না পারে। রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমানের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি মোবাইল ফোন ধরেননি।

  • শেয়ার করুন