৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ২:০৩

শিরোনাম

গাছ কর্তনে রেলওয়ে যেন ‘ছিনতাইকারী’, অসাধু কর্মকর্তাদের তাণ্ডবে ঝুঁকিতে পরিবেশ

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

রেল লাইনের পাশে রেল কর্তৃপক্ষের বেশ কিছু যায়গা রয়েছে। ঐসব যায়গায় প্রকৃতভাবে অনেক গাছ হয়ে বড় হয়েছে। সেই সব গাছ নতুন রেল লাইন সংযোগ লক্ষে জায়গা বৃদ্ধির নামে উন্নয়ন প্রকল্পের দায়ীত্বরত কর্মকর্তারা টেন্ডারবিহীন  শত শত বড় গাছ সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কতিপয় দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তারা গোপনে তাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে এসব গাছ বিক্রি করছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রের তথ্য ও সরেজমিনে দেখা যায় রেল লাইনের পাশে বন বিভাগের গাছ ছাড়া, রেল কর্তৃপক্ষের যায়গার গাছগুলো অভিভাবকহীন। যার ফলে স্থানীয় রেলের কর্মকর্তারা কর্মচারীরা  রাজস্ব খাতে টাকা জমা না দিয়া, সরকারের চোখে ধুলা দিয়ে টেন্ডারবিহীন গাছগুলি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন অসাধূ  কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা।

 

ঢাকা চট্টগ্রাম রেললাইন, ঢাকা সিলেট, ঢাকা রাজশাহী,ঢাকা দিনাজপুর, ঢাকা ময়মনসিংহ, ঢাকা ফরিদপুর, ঢাকা কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায়  রেললাইনে তাদের গাছ অহরহ কাটছে।  তাদেরকে সরকারি কোন আইন সংস্থা বা পরিবেশবাধী সংগঠন বাধা প্রদান করলে তারা বলে উন্নয়নের জন্য গাছ কাটতে হচ্ছে। আপনারা কে বাধা দেয়ার? এমন অভিযোগ সরকারি সংস্থা এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের।

 

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগে এবং পরে নির্বাচনী ইশতেহারে  ২৫ কোটি গাছ লাগানো কথা বলা আছে  জলবায়ু প্রভাব মোকাবেলার জন্য, সেখানে রেল কর্তৃপক্ষ কিভাবে বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া শত শত গাছ কর্তন করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আর রেল মন্ত্রী ও সচিব  তারা কি করছে। তাদের নজর কোথায় । আওয়ামীলীগের মত যদি লুটে পুটে খায় তবে গনতন্ত্রের  ও জুলাইর  আন্দোলনের সরকারের মধ্যে পার্থাক্য কি ? এ ধরনের প্রশ্ন এখন বিভিন্ন জেলার বন বিভাগের ও পরিাবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের।

বিভিন্ন জায়গার তথ্যে জানা যায় যেখানে  নতুন রেল লাইন হয়েছে রেলওয়ের নিজস্ব জায়গাই সেখানে রেল বিভাগের অনেক প্রাকৃতিক গাছ আছে, তৎকালীন সময় বন বিভাগকে বাগান করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু ঐ সমস্ত জায়গায় প্রাকৃতিক উপায়  শত শত  গাছ  রয়েছে  যা  রেলের অসাধু  ও দুর্নীতিবাজরা সরকারের কোন অনুমোতি ছাড়াই নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য টেন্ডার বিহীন গাছ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে নিজেদের  সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে বিক্রি করছে ।

 

নিয়মনুযায়ী বন বিভাগের গাছ বনজদ্রব্য পরিবহন ( নিয়ন্ত্রণ ) বিধিমালা ২০১১ বিধি- ৫(১)  অনুযায়ী সরকারি,আধা সরকারি,স্বায়ত্ব শাসিত, সড়ক, বাধ,রেল সংযোগ,উডলট,পৌরসভা, স্থানীয় সরকার বিভাগ,  স্কুল,কলেজ পর্যায় থেকে গাছ কাটতে হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।

 

বর্তমানে রেল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ এই সমস্ত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের নিজস্ব জায়গাই প্রাকৃতিক গাছ কেটে নিজেদের পকেট ভারী করছে বলে হাজারো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিছু দিন আগে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কোয়াটারে বিশাল বড় একটি গাছ কেটেছে যা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম প্রকাশ হলেও তাদের টনক নরেনি।

 

সূত্রে আরও  জানা যায় স্থানীয় কর্মকর্তাগণ কিছু সন্ত্রাসীর মাধ্যেমে গাছ কাটার লোক ঠিক করেন। অতঃপর রেলের ঠিকাদারদের সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় গাছ কাটা শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গায় বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসন বাধা দিলে উল্টো তাদেরকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন।

 

আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায় সরকারি আধা সরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান উন্নয়ন মূলক কাজেরকথা বলে যে ভাবে গাছ অন্যায়ভাবে কাটছে তা ঠিক না। গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে। বিষয়টি বিভিন্নভাবে রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই ব্যপারে রেল কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন জায়গাই দায়িত্ব নিয়োজিত  থাকা কর্মকর্তাদের ফোন দিলেও তারা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

  • শেয়ার করুন