প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের আলোচিত সমালোচিত একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম।বর্তমানে দখলে রেখেছেন ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–১ এর গুরুত্বপূর্ণ পদ। ডিপার্টমেন্টের নিয়োগ পোষ্টিং পদোন্নতি টেন্ডার নিয়ে তার অপ্রতিরোধ্য অলৌকিক শক্তি প্রয়োগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন গণপূর্ত প্রকৌশলীগন। প্রধান প্রকৌশলীকে সামনে রেখে বর্তমানে তিনিই ডিপার্টমেন্টের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।যার ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন–অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলী কে ?
প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ? না তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান। বিষয়টির বর্ননা কিছুটা নিম্নে প্রকাশ করা হলো ঃ
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা যায়, ধূর্ত বদরুল আলমকে মানুষরুপী গীরিগিটি নামে ডাকেন সহকর্মী প্রকৌশলীরা। কারণ তিনি সুবিধা অনুযায়ী ক্ষণে ক্ষণে ভোল বদলানো। কখনো সাদাসিদে কখনো রঙের ফিটফাট সার্ট প্যান্ট পরেন। প্রয়োজন শেষে পরিবর্তন করেন পোষাক ও চালচলন কথাবার্তা ।বিভিন্নরুপে, বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে পারদর্শী।সময় বুঝে টেবিলের লোকজনের সংখ্যা ও তাদের কথার ধরন বুঝে সুন্দরভাবে গুচিয়ে তার ভাষা প্লে করেন।পরিস্থিতির পরিবর্তনে কখনো আ’লীগ কখনো জাতীয়তাবাদী বা জামায়াত, আবার কখনো জুলাই যোদ্ধা। মন্ত্রনালয়ের ও পূর্ত দপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্তাদের ক্ষমতা বুঝে তার সাথে আত্বীয়র পরিচয় দিয়ে তার স্বার্থ উদ্ধার করে নেন।আর দপ্তরের কেহ জানলে বলে থাকেন ঐ প্রকোশলী ,ঐসচিবতো আমার আত্বীয় হয়।শীর্ষ দুর্নীতিবাজ সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের ভাতিজা পরিচয় দেন।পুর্ববর্তী স্বৈরাচারি মন্ত্রী তোফায়েলের নাতি। ফ্যাসিবাদের আরেক মন্ত্রী আ ম ওবায়দুল মোক্তাদীর চৌধুরীর ভাগিনা বলেন। বর্তমান গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের বড় কুটুম। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের অত্যন্ত কাছের লোক। এটা বলার কারন হলো একই গুরুর শীর্ষ হলে সবাই বলে থাকেন যেমন আমরা ভাই ভাই। তেমনি সচিব জামায়াতের লোক হওয়ায় বদরুল তার দলের কর্মী হওয়ায় তারা ভাই ভাই। প্রধান প্রকৌশলীকে এই পদে তিনিই বসিয়েছেন বলে সহকর্মী প্রকৌশলীদের কাছে দম্ভ করে বলে থাকেন। তিনি যা বলেন সচিব তাই করেন বলে– প্রকৌশলী বদরুল আলম নিজে নিজে অহংকার বোধ করেন।কারন একই দলের কর্মীদের কথাতো নেতাদের রাখতেই হয়।
আরো জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা -৭ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ঢাকা গণপূর্ত-১ নং সার্কেলে বদলী করা হয়। কিন্তু এই সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কুমিল্লা) ওসমান গনিকে সুপারিশ করেছিলেন সচিব নজরুল ইসলাম। বিষয়টি গোপণ মাধ্যমে জানতে পেরে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ দিয়ে তাকে দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে সচিবকে ফোন করান বদরুল। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এমন একটি বদলী আদেশ হয়। এ নিয়ে তোলপাড় হয় গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর। উপহাড় স্বরূপ তাহেরের নির্বাচনী খরচ বাবদ গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাতে তার গাড়িতে করে মোটা অঙ্কের উৎকোচ পাঠান বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা যায়। পূর্ত ভবন থেকে সাভার সার্কেলের লাল গাড়িতে করে ওই দিন সন্ধার পরে উৎকোচ পাঠান তাহেরের বাসায়। প্রকৌশলী বদরুল মনে করেছিলেন জামায়াত নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি পাল্টে গেলে প্রকৌশলী বদরুল আলম মির্জা আব্বাসের বাসায় গিয়ে দেখা করেন (আব্বাস) পূর্ত মন্ত্রী হচ্ছেন এমন ভেবে। সব কুট কৌশল তার বেহেশতে যায়। যার ফলে তার সিন্ডিকেটের লোকজন নিয়ে বর্তমান পূর্ত মন্ত্রীকে ম্যানেজ করার জন্য উঠেপড়ে চেষ্টা করছেন।
গত ডিসেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া এক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বৈরাচারের প্রেতাত্না সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌশলী বদরুল আলম খান ২০০৩ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) হয়েই ঠিকাদারি-বদলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে রাতারাতি নামে-বেনামে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান । চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে এভাবে লুটপাটের সাম্রাজ্য কায়েম করে অর্জন করা অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে- তার স্ত্রীর নামে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, খিলগাঁওয়ের গোড়ানে ৬তলা বিলাশবহুল বাড়ি, আশুলিয়ায় গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ কারখানা, আপন ভাইয়ের সাথে যৌথভাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, নামে-বেনামে বিভিন্ন লাইসেন্সের মাধ্যমে পরোক্ষ ঠিকাদারী ব্যবসা, স্ত্রী ও ভাই-ভাতিজা শালা-শালির নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় কোটি কোটি টাকার এফডিআর, রাজধানীর গুলশানে নিজ নামে একটি ও স্ত্রীর নামে দু’টি বিলাসবহুল আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিকানা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠার তিনটি প্লটসহ বিভিন্ন দেশে হরেক রকম বিনিয়োগ।লোকটি দেখতে অপুর্ব কিন্তু কাজ একটু বিচলিত. দুরন্তর.. ( চলবে )