২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ২:০৫

মব ভায়োলেন্স আর কতকাল চলবে?

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

          বীর মুক্তিযোদ্ধা এম হালিম ঢালীঃ

গত ২৫ মার্চ ২০২৫ইং তারিখে গাইবান্ধা পলাশবাড়ী থানার ভিতরে ঢুকে জামাত-শিবির ও যুব জামাতের নেতা-কর্মীরা সন্ত্রাসী তান্ডব চালায়। এখন ডক্টর ইউনুসের সরকার ক্ষমতায় নেই। ক্ষমতায় আছে বিএনপির সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং তারিখে বিএনপি একতৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তারেক রহমানের সরকারের বয়সও প্রায় দেড়মাস চলছে। কিন্তু আচার্যের বিষয় হলো এই, গত বুধবার গাইবান্ধা থানায় ঢুকে জামাত-শিবির ও যুব জামাতের নেতা-কর্মীরা ওসি সরোয়ার আলম খানসহ সাতজন পুলিশকে বেদমভাবে মারধর করে এক নেক্কারজনক ধৃষ্টতা দেখালো। যেখানে থানার ভিতরেই পুলিশ নিরাপদ নয়। সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কি? এরকম মব ভায়োলেন্স থামাবার কি কেউ নেই?

মব ভায়োলেন্সের এধারা অব্যহত থাকলে দেশ ধ্বংস হতে বেশিদিন লাগবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মানুষ তার দায়িত্ব ও কর্তব্য কাজেও ঘর থেকে বের হতে চাইবে না। দেশ পিছিয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। মব ভায়োলেন্সের শুরুটা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন এর মধ্য দিয়ে। যা আজও অব্যহত রয়েছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের চুড়ান্ত পতন হয়। এই ৫ আগস্টের বিকেলে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষনে সবাইকে শান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যেতে বলেছিলেন। তিনি ছাত্রদেরও ক্লাসে ফিরতে বলেছিলেন। কিন্তু কেউ তার কথা শুনে ঘরে বা ক্লাসে ফিরে যায়নি। ওয়াকার উজ্জামান আরো বলেছিলেন আমি দেশের দায়িত্ব নিয়েছি। তিনি জাতিকে তার উপর ভরসা রাখতে বলেছিলেন। জাতি তার উপর ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ৫ তারিখ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত দেশে কোন সরকার ছিলোনা। ওয়াকার উজ্জামান এই চারদিনে সম্পুর্ন ব্যর্থ হয়েছেন। ৮ আগস্ট ২০২৪ইং তারিখ রাতে বঙ্গভবনে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বের অন্তবর্তী সরকারের শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ চুপ্পু।

ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস ১৮ মাস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। তার সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আরো উশৃংখল হয়ে উঠে। তার সময়ে সারা বাংলাদেশে ভয়াবহ মব ভায়োলেন্স শুরু হয়। এই ভায়োলেন্স কারিরা সে-সময় মসজিদ, মাজার, মন্দির, দলীয় অফিস, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ৩২ নাম্বারের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, সাতজন বীর শ্রেষ্ঠের মুড়ান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেল-ফ্যাক্টরি, ঘরবাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঐ মব সৃষ্টিকারিরা কাকরাইলের জাতীয় পার্টির অফিসেও হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। মব ভায়োলেন্স এতোটাই ভয়ংকর রুপ নিয়েছিলো যে, জাতি সর্বদা আতংকে থাকতো। ছাত্র আন্দোলন কারিরা সেনাপ্রধানকে ভারতের দালাল ও কুকুরের বাচ্চা বলে গালি দিয়েও খান্ত হয়নি। তারা ক্যান্টনমেন্ট গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলো। তারা ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও এবং ক্যান্টনমেন্টের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়ারমত ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। তারপরেও সেনাবাহিনীর ছিলো নীরব। সেনাবাহিনীকে ভুয়া ভুয়া বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। তারা সেনাবাহিনীর উপর মারমুখী আচরণ করতেও দ্বিধা করেনি।

কিন্তু অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবিষয়ে নীরব ছিলেন। তিনি ইচ্ছে করলে তা বন্ধ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। ৫ আগস্টের পর এপর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী বা এমপি-মন্ত্রী দেশে নেই। অনেকে বিদেশে পালিয়ে গেছে। অনেকে দেশের ভিতরেই আত্মগোপনে এবং অনেকে জেলে বন্দী। এই আওয়ামী লীগ শূন্য দেশে মব ভায়োলেন্সের সীমা চূড়ান্তভাবে অতিক্রম করেছিলো। অতীতে অনেক সরকারেরই আন্দোলনের মুখে পতন হয়েছে। কিন্তু কোন পতিত সরকারের এমপি-মন্ত্রী, নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের উপর এমন জঘন্য অত্যচার বা নির্যাতন কেউ করেনি। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই সব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতেন। সেই সরকার বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সকল টিবি চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনগণকে শান্ত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরেও যারা উশৃংখল হয়ে নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনেছেন। কিন্তু ডক্টর ইউনুস ছিলেন তার উল্টো। দেশবাসীর মুখে চাউর ছিলো ঐসব মব ভায়োলেন্স ডক্টর ইউনুসের ইশারায় বা ইন্ধনেই হয়েছে। ডক্টর ইউনুসের সময় একশ্রেণির মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মবের মাধ্যমে হামলা, ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। তার জলন্ত প্রমাণ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা দুটি। মব সন্ত্রাসীরা একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় পত্রিকা দুটিতে লুটপাট, ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগেরমত ঘটনা ঘটায়। এটা ছিলো মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে প্রথম আলো ও ডেইলি পত্রিকার বাজার দখলের ব্যর্থ চেষ্টা। প্রথম আলো পত্রিকা দুইদিন বন্ধ ছিলো, সেই সুযোগে বিতর্কিত এক সম্পাদকের বিতর্কিত পত্রিকা সকল অফিস তার পত্রিকার মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করেছিলেন। ঐ দুইদিন বিভিন্ন অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিসারদের টেবিলে ও ওয়েটিং রুমে প্রথম আলো পত্রিকাটির বদলে বিতর্কিত সেই পত্রিকাটি।

ডক্টর ইউনুস আন্দোলন কারীদের চাপের মুখে ২৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ছাত্রলীগ ও ১২ মে ২০২৫ইং তারিখে  আওয়ামী লীগ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেন। এটাও ছিলো ডক্টর ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ।

এদিকে ডক্টর ইউনুসের সর্বাত্মক সহযোগিতায় নতুন বন্দবস্ত ও সংস্কারের উদ্দেশ্য নিয়ে শেরেবাংলা নগর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডক্টর ইউনুসের উপস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি গঠিত হয়। সেই দলের আহ্বায়ক হন নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আক্তার হোসেন।

এনসিপি নামের দল গঠনের পর দেশে আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যা তীব্র আকার ধারণ করে।

ঐ আন্দোলন কারীদের নেতৃত্বে আরো কতোগুলো উপদল সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চ, ছাত্র শক্তি ও জুলাই মঞ্চেরমত কিছু দল।

এসব দলের নেতারা আওয়ামী লীগের পরে টার্গেট করে বিএনপিকে। তারা আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট ও বিএনপিকে স্বৈরাচার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে নানাহ কটুক্তি করতে থাকে।

তারা আওয়ামী লীগেরমত বিএনপিকেও দেশছাড়া করার হুমকি দিতে থাকে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও তারা ছাড় দেয়নি। তারা তারেক রহমানকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালসহ নানান বিদ্বেষ মুলুক বক্তব্য দিতে থাকে। যা সভ্যতাকেও হার মানায়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কারিরা নিষিদ্ধ পল্লির অন্ধকার জগতের বাসিন্দাদের অশ্লীল গালি সভ্য সমাজের রাজপথে নিয়ে আসে। তারা শ্লোগানে শ্লোগানে বলতে থাকে টিনের চালে কাউয়া, তারেক আমার ——- ইত্যাদি ইত্যাদি।

এ শ্লোগান রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে শাহবাগ ও জাতীয় প্রেসক্লাবসহ ঢাকা এবং দেশের প্রত্যন্তঞ্চলে নিয়ে যায়। তাদের শ্লোগানের সাথে সুর মেলাতে দেখা যায় একশ্রেণির নারীদের। যাদের দেখে মনে হয়েছে গৃহবধূ ও মায়ের বয়সী। এছাড়াও ছিলো ১৭ বছর থেকে ২৫ বছর বয়সী নারীরাও। এসব নারীরা কিভাবে ঐসব শ্লোগানে সুর মেলালো তা দেখে জাতি বিস্মিত হয়েছে! শ্লোগানের ভাষা ছিলো গাছের ডালে কাউয়া, অমুক আমার———।বলতো দেখতে পেলে অমুকেরে —- —- ছিঁইড়া ফেল।তবে আমি বলবোএকটি ইসলামি রাষ্ট্রে এ ভাবে ওপেনে খারাপ ভাষায় শ্লোগান দেওয়া আইনত দন্ডনীয় হওয়া উচিত।বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রাখা  দরকার।কারো জন্য পরিবেশ বা সমাজ নষ্ট হবে তা হতে দেওয়া যায় না।

একটি সভ্য দেশে বা সভ্য সমাজে এমন শ্লোগান কেউ দিতে পারেনা।

এই শ্লোগানের ঝড়ে তারেক রহমানকেও কাবু করতে চেয়েছিলো তারা।

এসব নোংরা শ্লোগানে শুধু তারেক রহমানকেই নয়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়েও দিয়েছে তারা। তারা বিএনপির অনেক নেতাকে নিয়েই অসভ্য গালাগাল দিয়েছে। কিন্ত প্রতিত্তোরে বিএনপি ছিলো নীরব।

এসব গালাগাল সহ্য করতে না পেরে বিএনপি বর্ষীয়ান নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস স্ট্রোক করে আজ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন।

চিপ নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরুদ্দিন নির্বাচনী আচরণ বিধি জারি করেছিলেন। তাতে অনেকগুলো বিধিনিষেধের মধ্যে একটি ছিলো, কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে  অশালীন, বিষোদগার ও বিদ্বেষমুলুক বক্তব্য দেওয়া যাবেনা। কিন্তু ঢাকা ৮ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী কি সেই আচরণের কোনো তোয়াক্কা করেছেন?

প্রতিনিয়ত নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী মির্জা আব্বাসকে অসশ্রভ্য ভাষায় গালাগাল দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর ৬ মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রার্থীতাও বাতিল হিয়া বিধান ছিলো। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে  কিছুই করা হয়নি।

 

  • শেয়ার করুন