প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তর এখনো আওয়ামীপন্থী নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকারের কব্জায়। নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য আগের চেয়েও বেপরোয়া। সম্প্রতিকালে তাকে ঢাকার বাইরে ঝালকাঠি জেলায় বদলি করা হয়েছে। অসুস্থতার সাটিফিকেট, পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে ছুটি কাটাচ্ছে।ঝালকাঠি থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় আসতে নিজের অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যা উল্লেখ করেছেন। আমান উল্লাহ সরকার কাগজে কলমে হাজিরা ঝালকাঠিতে ঠিক রাখেন কিন্তু পূরো সপ্তাহ জুড়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর ঢাকায় থাকেন। কাজের চেয়ে নিজেদের মিটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি করে শতাধীক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার।
তার তথ্য উপাত্ত থেকে খুজে পাওয়া যায়- ব্রাম্মনবাড়ীয়া জেলার নবীনগর উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামে তার বাড়ী। বাবা মিজানুর রহমান সরকার, মা আছিয়া বেগম। তার পরিবারের সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। বুয়েটে ডাঃ এম এ রশিদ হলের কক্ষ নং- ১০১১ তে পড়াকালীন তিনি ছাত্রলীগে কর্মী ছিলেন। এখন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে যোগাযোগ রাখছে বলে অধিদপ্তরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
আমান উল্লাহ সরকারের বিরুদ্ধে অনেক অনেক গুরুতর অভিযোগ হয়েছে। তার মধ্যে হলো- মহাখালী নার্সিং কলেজের সামনের রাস্তার উন্নয়ন কাজ নামমাত্র সম্পন্ন করেই বরাদ্দের ৭ কোটি টাকা তুলে ঠিকাদারের সাথে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ও বাড়ি করেছেন তিনি। এছাড়াও তার গ্রাম নবীনগরে প্রায় ১০০ একক জমি ক্রয় করেছেন। যার অনুমান দাম ২০০ কোটি টাকা। সূত্রমতে, নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার ছাত্র–জনতার আন্দোলন ঠেকাতে কয়েক কোটি টাকা জোগান দিয়েছেন। তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুন উর রশিদ হারুন, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও বিপ্লব কুমার সরকারকে অর্থের যোগান দিয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদক অভিযোগ গুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনার লোক হওয়ায় তার দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে লেখলে তখন মামলার ভয় দেখানো হতো। এখনো একইভাবে চলছে তার ক্ষমতার দাপট। তিনি ইতিমধ্যে ভোল্ট পালটিয়ে বিএনপি পন্থী বনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা মনে করতেন নিজেরা চাকরি করেননা, সবাই রাজনৈতিক নেতা।
যারা বিগত সরকারের সময় সুযোগ-সুবিধা ভোগ ও দুর্নীতি-অনিয়ম করেছেন, তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। সূত্রমতে, এখানে যাদের হাতে ক্ষমতা থাকে তাদের ইচ্ছায় সব হয়। ছাত্র-জনতা হত্যার পাশাপাশি অনেকে দুর্নীতির সঙ্গেও জড়িত। তারা এখন প্রকৌশলী হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। এর আগে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার জি-কে শামীমের সঙ্গে সখ্য গড়ে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। দুর্নীতি অনিয়মের মাস্টারমাইন্ডরা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বেতনের সাথে আয়ের উৎস খোঁজ নিলে পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদের হদিস মিলবে। স্ত্রী, সন্তান ও আত্নীয় স্বজনদের নামেও পাওয়া যাবে অঢেল সম্পদের খোঁজ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতিবাজ আমান উল্লাহ সরকারের তালিকা হয়েছে। তাকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
এদিকে গণপূর্তের দাপুটে প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নেয়া হয়নি তাদের পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদের হিসাব। তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়নি। পতিত সরকারের সময়ে তিনি প্রকৌশলী নিজ অফিসে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে কমিশন বাণিজ্য করেছেন তারা এখনো বীরদর্পে আছেন। শুধুমাত্র এক জায়গা থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের চিহ্নিত কর্মকর্তা আমান উল্লাহ সরকার।
নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ স্বজনদের নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স নিয়ে কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে। তিনি অনেক সময় ঘুপচি টেন্ডারের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতেন।এখনো একইভাবে চলছে। অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে। তারা আরো জানান, অতীতে যারা সুবিধাবঞ্চিত ছিলেন তাদের অধিকাংশ এখন ভালো পজিশনে আছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ভোল্ট পালটানোদেরকে নিয়ে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকারের সম্পদের হিসাব বিবরণীতে গড়মিল রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এক্ষেত্রে দুদকের অনুসন্ধান জরুরি বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।আমান উল্লাহ সরকারের মুঠোফোনে ০১৯১৪****৩৮ তার মতামত নেয়ার জন্য একাধীকবার ফোন করা হয়। কিন্তু আমান উল্লাহ ফোন রিসিভ করেনি।