২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,রাত ৪:৩২

শিরোনাম
বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার করলে কী শাস্তি, নীতিমালা জেনে নিন এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল হাসান পেলেন সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা ‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, গেলে গুলি করবে’—এই কথাটি সাংবাদিক আলিফ আগেই বলেছিলেন। যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬ বাংকারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদল সৌদি যুবরাজের! সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সিরাজগঞ্জে চিকিৎসাধীন নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা ঘেরাও করে শিক্ষককে পিটুনি, আহত ৩ পুলিশ সদস্য মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম শহর রেঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত বেপরোয়া ফরেস্ট গার্ড আসলাম; নেপথ্যে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের আশীর্বাদ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বন বিভাগের উচ্চপর্যায়ের লাগামহীন দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজত্বের কারণে সরকারি বন, চেকপোস্ট ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এর মূলে রয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের শহর রেঞ্জকে কেন্দ্রে ও ঢাকা বন বিভাগে  গড়ে ওঠা একাধীক শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ।

এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও সর্বেসর্বা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ফরেস্ট গার্ড চট্টগ্রাম শহর রেঞ্জ এর আসলাম (আছলাম)। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা আসলাম বর্তমান সময়ে এসে সিএফ (CF) অ্যাডমিন, সিএফ (CF) নিসাদ এবং ডিএফও শারমিন আক্তারের আস্থাভাজন হয়ে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে ঢাকা বন বিভাগ পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের শহর রেঞ্জের বিতর্কিত কর্মকর্তা ও ক্যাশিয়ার খ্যাত রেঞ্জার আব্দুল মালেকের সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী হিসেবে তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও লুটপাট চালিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বন বিভাগের কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য এবং ফাইল কারসাজির একচ্ছত্র অধিপতি এখন এই আসলাম।

মাসোহারা ও চেক স্টেশন নিয়ন্ত্রণ

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চেক স্টেশন—যেমন ধূমঘাট ও করের হাট—পাশাপাশি শহর রেঞ্জের বিভিন্ন কাঠের ডিপোগুলো থেকে অবৈধভাবে কাঠ পারাপারের জন্য যে মাসোহারা বা চাঁদা আদায় করা হতো, তার পুরো সংগ্রহ ও বণ্টনের মূল দায়িত্ব ছিল আসলামের হাতে। বনের মূল্যবান কাঠ পাচার এবং সরকারি সম্পদ তছরুপের প্রতিটি ধাপে তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বদলি ও পোস্টিং বাণিজ্যের মূল হোতা

বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে পদায়ন এবং সুবিধাজনক রেঞ্জে বদলি নিশ্চিত করার নামে অবৈধ অর্থ লেনদেন বা তদবির বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই আসলাম। বদলি বাণিজ্যের কোটি কোটি টাকার লেনদেনে তিনি প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন। নিজের অসাধু সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষার্থে তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। তার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য সিএফ- এ্যাডমিন ও সিএফ নিসাদ এবং ডিএফও  শারমিন আক্তার আসলামকে মোটা অঙ্কের  লেনদেনের ফলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা সামাজিক বন বিভাগে বদলী করার অর্ডার  করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এখন তাকে সোনার গা ফরেস্ট চেকপোস্ট নিয়োগের পায়তারা চলছে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে ।

নথি গায়েব ও মামলার ফাইল কারসাজি

বন আইনের মামলার আসামি ও অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীদের আইনি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিতেন আসলাম। এমনকি নিজের স্বার্থে এবং সিন্ডিকেটের অপরাধ ঢাকতে আদালতের মামলার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও মূল প্রমাণাদি ম্যানিপুলেট বা সম্পূর্ণ গায়েব করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

যাবতীয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের মূল হোতা ফরেস্ট গার্ড আসলাম এবং সংশ্লিষ্ট সিএফ, ডিএফওসহ জড়িত অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বন বিভাগের প্রধান কার্যালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

  • শেয়ার করুন