প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬
প্রকাশিত:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে পদমর্যাদার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ২২ হাজার টাকা মূল বেতন স্কেলের সরকারি কর্মচারী হয়েও বিলাসী জীবনযাপন, ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমানে যাতায়াত এবং অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ করার বিষয়টি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ‘ভুল তথ্য’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা।
বেনামে ঠিকাদারি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
অনুসন্ধানী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া খাদিজা আক্তার ২০২০ সাল থেকে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত আছেন। কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের লাইসেন্স এবং বেনামে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ তিনি তার স্বামী সজল হাওলাদারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন এবং নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে স্বামীর লাইসেন্সকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছিল বলেও জানা যায়।
অভিযোগ অস্বীকার খাদিজা আক্তারের ,তবে এসব অভিযোগের জবাবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী খাদিজা আক্তার বলেন, “বেনামে ঠিকাদারি করার তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। আমার স্বামী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) ঠিকাদারি করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে নয়। সেখানে ব্যবসা করায় কোনো আইনি বাধা আছে বলে আমার জানা নেই।
একই কর্মস্থলে ছয় বছর ধরে অবস্থান এবং শোকজের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ” আপনাদের কাছে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। আমি একই কর্মস্থলে ছয় বছর নয়, চার বছরের কিছু বেশি সময় ধরে আছি। আর আমাকে আমার কর্তৃপক্ষ বা অফিস থেকে কোনো দিন কোনো শোকজ করা হয়নি।”
বিলাসী জীবন ও বিমান ভ্রমণ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা
মাত্র ২২ হাজার টাকা স্কেলের চাকরিজীবী হয়ে বিমানে যাতায়াত ও বিলাসী জীবনযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, “২০১০ সালে আমার বিয়ে হয়েছে এবং চাকরিতে ঢুকেছি ২০১৭ সালে। আমার স্বামী ২০১০ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠিত। চাকরির আগেও স্বামীর ইচ্ছায় দুই-তিনবার বিমানে উঠেছি, আর চাকরির পর বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো দুইবার উঠেছি। এটি নিয়মিত কোনো বিষয় নয়।”
সরকারি পদে থেকে স্বজনদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।সরকারি কোন দপ্তরের কোন কর্মকর্তাই সৎ বা সাধু স্বীকার করতে পারবে না। সবাই ঘুসখোর ও দুর্নীতিবাজ। যতটুকু স্বীকার করেছেন তাতেই তো বিচার হওয়া উচিত । কিন্তু করবে কে ? সচিব হতে পিয়ন পর্যন্ত অসৎ । আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কথা বলছেন এখানেতো এক বস্তা বালু ফেলে ১০০ শ বস্তার বিল করে। ধরা পরলে দোষি নচেৎ সাধু ভেসে সন্নাসী । ( সুত্র: দৈনিক সাহসী সংবাদ )