২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,সকাল ১১:২৯

বেকারত্বের অবসান না হলে সামাজিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাবে: সাইফুল হক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ  রাজধানীর ফার্মগেটের ফ্লেমিংকো কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারকে মানুষের জানমাল ও জীবন জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার গঠনের ৬ মাস পর এখন জনজীবনের জরুরি সংকট সমাধানে দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচিত জনপ্রিয় সরকারের কাছ থেকে মানুষ এখন আর কোন অজুহাত শুনতে চাইবে না।

তিনি বলেন, দ্রুত অসহনীয় বেকারত্বের অবসান না হলে সামাজিক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও অপরাধ প্রবনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের ফ্লেমিংকো কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল হক এসব কথা বলেন। সভায় ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা থেকে প্রায় তিন শতাধিক যুব প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সাইফুল হক বলেন, এখন আর কোনোভাবেই বিশাল যুবশক্তির অমিত সম্ভাবনা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ না করার ঘোষণাকে স্বাগত জানান এবং বলেন, কেবল ভারতের ক্ষেত্রে নয়, সব পরাশক্তির সঙ্গেই জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের এ নীতি অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সত্যিকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে বাংলাদেশবিরোধী সকল অপপ্রচার ও অপতৎপরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

সাইফুল হক বলেন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানির মতো অতি সংবেদনশীল খাতকে কোনোভাবেই বিদেশ নির্ভর করে রাখা যাবে না। জাতীয় স্বাবলম্বিতার নীতির ভিত্তিতে জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সমুদ্র ও ভূখণ্ডে নিজেদের জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও মানুষ খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের  শিকার হচ্ছে।  তিনি দুর্বৃত্ত অপরাধীদেরকে রাজনৈতিক পরিচয়ে বিবেচনা না করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান।

সাইফুল হক বলেন, নির্বাচিত সরকারকে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্বের প্রমাণ দিতে হবে। আওয়ামী লীগের মতো আর কেউ যেন জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়, সে ব্যাপারেও তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

যুবসমাজের উদ্দেশে সাইফুল হক বলেন, দেশের যেকোনো অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবী যুবসমাজকে বুক চিতিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে যুবসংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ৬৯ ও ৭০-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন ও সংগ্রামে যুবসমাজ জীবন দিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব জাস্টিসসহ নানা ধরনের প্রতারণা ও অনিশ্চয়তার কারণে বহু যুবক বিপদে পড়েছেন, বেকারত্বের শিকার হয়েছেন এবং জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। যুবসমাজের এই হতাশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বহ্নিশিখা জামালী বলেন, যুবসমাজই দেশের প্রাণশক্তি। তাই হতাশ না হয়ে জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও জাগ্রত করতে হবে। দেশের পরিবর্তন ও মানুষের মুক্তির সংগ্রামে যুবসমাজকে একটি শক্তিশালী বিপ্লবী শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

যুব নেতা তুহিন রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রতিনিধি সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতির সদস্য সচিব মীর রেজাউল আলম, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক আওয়াল মাহমুদ, ঢাকা উত্তর এর যুব সংগঠক ইব্রাহিম হোসেন রনি প্রমুখ।

বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, যুবসমাজের সংকট, কর্মসংস্থান, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করে অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মিলিত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সকালে প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। সভার শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, বিপ্লবী যুব সংহতির সংগঠক প্রয়াত শিবু মোহান্ত ও নেপালে নিহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।

 

  • শেয়ার করুন