প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির নেতারা এই ঘটনাকে স্বাধীন রাজনৈতিক চর্চা ও সংবিধান স্বীকৃত সভা-সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচিত সরকারও বিগত পরাজিত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বিরোধী বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার পুরোনো চর্চা অব্যাহত রাখছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, জনগণ কোনো স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি দেখতে রক্ত দেয়নি। রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার একটি রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়া সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। কোনো যুক্তি বা অজুহাতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকারকে হরণ করা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের পথ রুদ্ধ করার এই অগণতান্ত্রিক মানসিকতা প্রমাণ করে যে শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন এখনো অধরা। সরকার জনআকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়ে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিলে রাষ্ট্র ও সমাজের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এনসিপি অনতিবিলম্বে সরকারকে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক সভা, সমাবেশ ও কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে প্রশাসন ও পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানায় দলটি।
অবিলম্বে সব দলের জন্য সমান গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করা না হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করার হুঁশিয়ারি দেন এনসিপি নেতারা।