১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ২:৫০

গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মানববন্ধন: ১০ দফা প্রস্তাব

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ঃ

দেশের চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে আজ বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটর মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

 মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গ্যাস শুধু একটি জ্বালানি নয়; এটি দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অথচ বর্তমানে শিল্পকারখানায় গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অনেক কারখানা সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে, নতুন বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাসের নিম্নচাপ অনিয়মিত সরবরাহে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

 বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে গ্যাসের চাহিদা সরবরাহের ব্যবধান আরও প্রকট হয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া, নতুন অনুসন্ধান কূপ খননের ধীরগতি, এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অস্থিরতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর প্রভাব শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়ছে।

 মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল আমদানিনির্ভর নীতি নয়, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা না হলে এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব হবে না।

 সভাপতির বক্তব্যে নুরুল আমীন শাহীন, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বলেন, সরকারের উচিত রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, দুর্নীতি দমন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের আহ্বান জানান।

 বিশেষ অতিথি মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে। তিনি গ্যাস খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজমুল মোর্শেদ, অর্থ সম্পাদক মোস্তফা আনোয়ার ভুইয়া রিপন, আইন মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ আব্দুর রউফ খান, দপ্তর সম্পাদক মো. তুষার রহমান, যুগ্ম যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. মনির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাচ্চু।

 বক্তারা বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না, সমাধান চাই; দোষারোপ নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চাই। এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে শিল্পকারখানা সচল থাকবে, মানুষ নির্বিঘ্নে গ্যাস পাবে এবং অর্থনীতি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।

 বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১০ দফা দাবি

. দেশব্যাপী নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কূপ খননে জরুরি কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

 

. বাপেক্সকে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল পর্যাপ্ত অর্থায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে।

 

. গ্যাস উত্তোলন, আমদানি বিতরণে পূর্ণ স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

. পাইপলাইনের লিকেজ, সিস্টেম লস অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

 

. শিল্প, বিদ্যুৎ, সার কারখানা আবাসিক খাতে পরিকল্পিত ন্যায্য গ্যাস বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

 

. এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।

 

. নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর বায়ু বিদ্যুতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে হবে।

 

. গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে।

 

. জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক বাস্তবসম্মত জ্বালানি নীতি প্রণয়ন বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

১০. গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

  • শেয়ার করুন