প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চুল ও গোঁফ কেটে ছদ্মবেশ ধারণ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সকালে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা অবস্থায় নিজেকে পুরান ঢাকার এক সাধারণ শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ডিবির তল্লাশিচৌকিতে নিজের নাম মিরাজ দাবি করলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনিই কাঙ্ক্ষিত ডেভিড ইমন। এর আগে গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রামের অক্সিজেন-কুয়াইশ এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ইমনের দুই সহযোগী আসিফ ও সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ইমন যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের সাধারণ পরিবারের সন্তান মোবারক হোসেনের অপরাধজগতে হাতেখড়ি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ফটিকছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তৎকালীন শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু তৈয়বের শিষ্য হিসেবে তিনি এলাকায় ছিচকে চুরি এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তিনি এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন এবং ছোট সাজ্জাদের হাত ধরে নিজের নাম বদলে ডেভিড ইমন রাখেন। পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি দ্রুত অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর এই বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে আবির্ভূত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই বছরেই ডেভিড ইমন একাধিক খুনের মামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট বাকলিয়া এলাকায় আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা আইএসপি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের ফোন করে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চন্দপুরার ডিডিএন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটিয়েছিল তার বাহিনী।
পুলিশ জানায়, ঢাকায় কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর যশোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইমনের। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক জানিয়েছেন, দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।