শ্রদ্ধাস্পদ সরকার প্রধান সমীপেষু,
১৯৭১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়—জনগণের মূল চাহিদা অত্যন্ত সীমিত ও সাধারণ। এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি, দুর্নীতি কিংবা বিলাসী জীবনের মোহ নেই। তারা শুধু চায় স্বাধীনভাবে মনের কথা বলতে, সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে এবং কাজ শেষে নিরাপদে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে। সাধারণ জনগণের এই মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে পারলে তারা সরকারের পাশে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি:
১. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নির্মূল
- কঠোর পদক্ষেপ: সমাজ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও জোর-জবরদস্তি দখলদারিত্ব অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বসে বসে চাঁদা তোলার সংস্কৃতি স্থায়ীভাবে নির্মূল করা প্রয়োজন।
- সেনাবাহিনী টহল: আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের জন্য সেনাবাহিনী দিয়ে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
২. ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ ও মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান
- ঘুষ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করে কম পক্ষে একটা বছর শিক্ষা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো মেধাবী নাগরিক বঞ্চিত না হয়।
৩. বাজার দর নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ
- মূল্যস্ফীতি রোধ: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
- ক্যাবিনেট তদারকি: ভেজালমুক্ত খাদ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠিন আইনি ব্যবস্থাসহ সরাসরি সরকারের মন্ত্রিসভাকে বাজার মনিটরিং ও নজরদারি বাড়াতে হবে।
৪. খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল প্রতিরোধ: স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন
ভেজালমুক্ত খাদ্য ও মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় সংকোচন ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা।
- ভেজালমুক্ত খাদ্য ও খাঁটি ওষুধ নিশ্চিতকরণ: খাদ্যে ভেজাল মেশানো এবং মানহীন ওষুধ বিক্রি কঠোর হাতে দমন করতে পারলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সরকারের প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
- রোগব্যাধি হ্রাস ও চিকিৎসা ব্যয় কমানো: মানুষ যখন বিশুদ্ধ খাবার খাবে এবং সঠিক ওষুধ পাবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই রোগব্যাধি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাবাবদ ব্যক্তিগত খরচ ও ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
- হাসপাতালে চাপ কমানো: দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত ভিড় এবং ডাক্তারদের চেম্বারে দীর্ঘ লাইন কমে আসবে, যার ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ দূর হবে।
- জরুরি তদারকি ও তদারকি টিম গঠন: এই বিষয়টি বাস্তবায়নে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ তদারকি সেল গঠন করে বাজার ও ওষুধ শিল্পে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়াতে হবে।”জনগণ যদি সুস্থ থাকে, তবে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং স্বাস্থ্য বাজেটের একটি বড় অংশ বেঁচে গিয়ে তা দেশের অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।”
৫. প্রশাসনিক কঠোরতা ও কোমলতার ভারসাম্য
- শুধু মিষ্টি ভাষা ও নমনীয় চালচলন দিয়ে দেশের লোভী ও সুযোগসন্ধানী চক্রকে সংশোধন করা সম্ভব নয়। সুযোগ পেলেই অসাধু ব্যক্তিরা দেশের ক্ষতি করতে পিছপা হবে না।
- অসাধু চক্রকে দমনে প্রশাসনের কোমলতা দূর করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় সরকারের সুদূরপ্রসারী সকল ইশতেহারই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।
৬. ইতিহাস থেকে শিক্ষা ও রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তা
- অতীতে জনগণের কল্যাণে গৃহীত দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের হৃদয়ে স্থান পেয়েছিলেন এবং তাঁর প্রয়াণে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু কোমল মনোভাব ও অতিরিক্ত বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আততায়ীরা সেই মহান নেতাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল।
- সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা থেকে স্পষ্ট—রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আপনাকে অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক হতে হবে।
- লোকসভা ও জনসমক্ষে অমায়িক আলোচনার পাশাপাশি আপনার নিজ দফতর, বাসস্থান এবং যাতায়াতে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রপ্রধান নিরাপদ ও দৃঢ় থাকলে দেশ ও জনগণও নিরাপদ থাকবে।
উপরে উল্লেখিত মৌলিক সমস্যাগুলো দৃঢ়তার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সাধারণ মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও সমর্থন বজায় থাকবে। আশা করি, দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।

মো: হুমায়ুন কবির , হিমু : সাংবাদিক ও লেখক