১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ২:৫২

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র গোপালগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নিতে পারছে নাঃ

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা এম হালিম ঢালীঃ    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের মোশারেফ হোসেন মোল্লা ও তার ছোট ভাই এনায়েত হোসেন মোল্লা এবং চাচা এমদাদুল হক মোল্লা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার টানে জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

একই পরিবারের এই তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনার হাসনাবাদ টকিপুর ক্যাম্পে ট্রেনিং নেন। ট্রেনিং শেষে প্রথমেই তাদের ৯নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে মোশারেফ হোসেন মোল্লাসহ তাদের ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ৮নং সেক্টরের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পুর্নাঙ্গ বা সর্বাত্মক যুদ্ধে নামানো হয়।

৮নং সেক্টরের প্রথম কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী বীর উত্তম। পরবর্তীতে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর বীর উত্তম।

একই পরিবারের তিনজন মুক্তিযোদ্ধা একটি বিরল ঘটনা।

অথচ এই বীর পরিবারকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোশারেফ হোসেন মোল্লা যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার আব্দুস সোবাহানের নেতৃত্বের একজন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ছিলেন। দীর্ঘ নয়মাসের যুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেকগুলো দুর্ধর্ষ সফল অপারেশন চালিয়ে শত্রুপক্ষকে নাস্তানাবুদ করেছেন।

দীর্ঘ নয়মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশকে স্বাধীন করেছেন মোশারেফ হোসেন মোল্লারমত হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধারা।

সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি গুষ্টি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এটা শুভ লক্ষণ নয়।  মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী ঐ চক্রের বিরুদ্ধে জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের পর মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল এম এ জি ওসমানী মোশারেফ হোসেন মোল্লাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে তার স্বাক্ষরীত সার্টিফিকেট দিয়েছেন। মোশাররফ হোসেন মোল্লাও সেই সনদ পেয়েছেন। যার নং ৯৫৯৫৫, এফ-৯১১৬৪।

পরবর্তীতে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শেষে মোশারেফ হোসেন মোল্লাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লাল মুক্তি বার্তায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লাল মুক্তি বার্তা নং ১০৯০১০২৭৮, মুক্তিযোদ্ধা নং ০১৩৫০০০৫০৯৪ এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি স্বাক্ষরযুক্ত সনদ দেওয়া হয় মোশারেফ হোসেন মোল্লাকে। যার নং ১৭৮৮৩, তারিখ ২৬ অক্টোবর ১৯৯৯ইং।

এরপর গত ৩১/০৭/২০১১ইং তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের স্বাক্ষরিত সনদ দেওয়া হয়।

দেখা যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২ হাজার ১৬১ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মোশারেফ হোসেন মোল্লার নাম ১৭১ নাম্বারে রয়েছে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কর্তৃক এমআইসি (MIS) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ও বিশেষ ডিজিটাল তথ্যভান্ডার বা ডাটাবেইজে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লার সকল তথ্য সংরক্ষিত আছে।

সেই এমআইএস (MIS) এর মাধ্যমে মোশারেফ হোসেন মোল্লা প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা সন্মানি ভাতা পাচ্ছেন।

এতোসব থাকার পরেও একটি অসাধু ও কুচক্রী মহল বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লার সম্মানহানী করার জন্য গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

ঐ চক্রটি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লাসহ তার পরিবারের উপর ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং তাদের মানসম্মান ও সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে মনগড়া ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

মোশারেফ হোসেন মোল্লা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার ছেলে শরিফুল ইসলাম মোল্লা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। তার চাকরিও প্রায় ২৫ বছর পার হয়েছে। শরিফুল ইসলাম মোল্লা তার কর্মধক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলাগুণে ধাপে ধাপে প্রমোশন পেয়ে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই একটি কুচক্রী মহল সৎ ও চৌকস তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম মোল্লার এই উন্নতিকে সহ্য করতে পারছেনা। একারণেই তার ক্ষতি করার জন্য ঐ চক্রটি উঠে পরে লেগেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে তারা নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি গোপালগঞ্জ সদরের মুক্তিযোদ্ধারা মোশারেফ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে ঐ সকল মিথ্যা ও বানোয়াট এবং মনগড়া সংবাদের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বিশাল বিশাল ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে গোপালগঞ্জ ডিসি ও ইউএনও অফিসের সামনে মানববন্ধন করেন। ঐ মানববন্ধনে জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ বোরহান উদ্দিন, ছবেদ আলী ভুইয়াসহ শত-শত মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর মোশারেফ হোসেন মোল্লার পক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করেন। সেই সংবাদ সন্মেলন ও মানববন্ধনের খবর দৈনিক যুগান্তর, ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ইনকিলাবসহ অনেকগুলো মুলধারার পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে।

পরিশেষে বলবো, গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও শান্তির প্রতীক স্বাধীনতার অন্যতম ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী ও সন্তান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।

যারা স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আপনি কঠিন শাস্তি মুলুক ব্যবস্থা নিবেন এই প্রত্যাশা রইলো।

 

  • শেয়ার করুন

আরও পড়ুন