১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,সকাল ৬:৪২

শিরোনাম
জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৫ জন গ্রেফতার সাবেক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি রোববার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ, অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী ঢাকায় গ্রেফতার: ডিএমপি মাদ্রাসার শৌচাগারে শিক্ষার্থীর লাশ, শিক্ষক জাকারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে, শুনানিতে উঠে এল নানা তথ্য নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৪২ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতফাইল ছবি রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে (৩৫) তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার অপর এক শিক্ষকের বয়স মামলার এজাহারে ২০ বছর উল্লেখ করা হলেও শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শিশু বিবেচনায় রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ওই রাতেই কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট ওই মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৪ আগস্ট তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ হোসেন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আজ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিহত শিশু ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়ত। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকেরা ওই শিশুর ওপর নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি সে তার মাকে জানালে মা তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে সে আর মাদ্রাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বেলা একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তি শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, ১৩ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে বাথরুমে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে, যা একটি অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। ওই শিশুটি আগেই তার মাকে জানিয়েছিল, সে এই মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। আইনজীবী আরও বলেন, নিহত ছাত্রটি পড়াশোনায় ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল। শিক্ষক তাকে নিজের কাছে ঘুমানোর জন্য বলতেন। মূলত গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালতে শিক্ষক ও নিহতের ভাইয়ের বক্তব্য শুনানিকালে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি জাকারিয়াকে কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান। এ সময় জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা হাফেজ মানুষ, আমরা মারিনি। ঘটনার দিন ওই ছেলে পড়া না পারায় তাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। জোহরের নামাজের আগে সে বাথরুমে যায়। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে ফেরেনি। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আমাদের ছাত্ররা এর সাক্ষী।’ আদালত জাকারিয়াকে মাদ্রাসায় সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না, জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই ছাত্র এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তখন আদালত প্রশ্ন করেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে আপনাদের সিসিটিভি ফুটেজ নেই কেন?’ শুনানির একপর্যায়ে আদালত নিহত শিক্ষার্থীর ছোট ভাইকে ডেকে কথা বলেন। মাদ্রাসায় তাদের মারধর করা হতো কি না, জানতে চাইলে শিশুটি বলে, ‘আমাদের অনেক মারধর করা হতো। ভাইয়ের সাথে বেশি খারাপ ব্যবহার করা হতো।’ কেমন খারাপ ব্যবহার করা হতো, তা জানতে চাইলে শিশুটি আর কোনো উত্তর দেয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর শিক্ষককে শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের বিক্ষোভ আজ আদালতে নিহত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের আদালত থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত স্বজনেরা তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। পুলিশ দ্রুত আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নিহত শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আসামিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন ও আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন। পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি, কখন কী ছিলেন মির্জা ফখরুল মেয়াদ শেষের ১১ মাস আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের নিয়োগ বাতিল রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান আমানতের উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমার সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

মব সহিংসতায় ৬ মাসে ১৩৫ জনের মৃত্যু: বিসিআরএস-এর মানবাধিকার প্রতিবেদন

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক ঃ  দেশে মব জাস্টিস বা মব সহিংসতা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের গত ছয় মাসে সারা দেশে এ ধরনের ২৬৩টি ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত এবং ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্বিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন অজুহাতে এসব গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে ১৪১টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ১১৯ জন আহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় এবার নিহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটি (বিসিআরএস) প্রকাশিত গত ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংস্থার নিজস্ব সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সমাধান করা না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যেতে পারে।’

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ৩৯ জন (৬৮%), জামায়াতে ইসলামীর ৬ জন (১১%) এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৩ জন রয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতার ৮৩২টি ঘটনার মধ্যে ৬৭৫টিই (৮১.২%) ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল এবং দলটির সাথে অন্যান্য দলের মধ্যে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৫ হাজার ২৪৬ জনের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক ৩৯৬টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৫৭৮ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ৬০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিগত ছয় মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সহিংসতা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় কমপক্ষে ১৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩ হাজার ২৬৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২৪ হাজার ৫১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের (১ হাজার ৪২ জন) তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মধ্যে ৪০৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যার ৫৯ শতাংশই (২৩৮ জন) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৮ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে।

এ ছাড়া যৌতুকের জন্য ১৯ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে ৩২০ জন নারী নিহত ও ২১১ জন আহত হয়েছেন। নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ১৪৭ জন নারী।

গত ছয় মাসে ৪০টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে। এতে ৩১১ জন আহত ও ৩৮ জন আটক হন। এই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর অধীনে ৩০টি মামলায় ৮১ জনকে অভিযুক্ত এবং ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই সময়ে ২০০টি হামলার ঘটনায় ৩৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৩৪ জন আহত, ৬০ জন লাঞ্ছিত, ৪৯ জন হুমকির সম্মুখীন এবং ১১ জন সাংবাদিক আটক হয়েছেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫০টি হামলার ঘটনায় ৫৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৯টি মন্দির, ১৫টি প্রতিমা ও ৪৩টি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩২টি ঘটনায় বিএসএফের হামলায় ৯ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন (১৪ জন গুলিবিদ্ধ)। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২০টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত ও ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কমপক্ষে ৫৮ জন আসামি মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের, ১ জন বিএনপির এবং ৪২ জন সাধারণ কয়েদি ছিলেন।

 

  • শেয়ার করুন