৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,বিকাল ৩:৪১

শিরোনাম

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ ঘুষ-দুর্নীতিতে হিটলার।

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রাজধানীর গুলশান ১-এর ১৩০ নম্বর সড়কের ১১/বি-এর আশক্স আমারি ওয়ে ডেভেলপার্স এলটিডির পাশে ৩০ কাঠা জমির ওপর বিশাল গ্যারেজ। গ্যারেজটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় শতকোটি টাকা। বনানীর ২৫/এ সড়কের ৫৫ নম্বর বাড়ি। এই বাড়ি নির্মাণে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রগতি সরণির শহিদ আব্দুল আজিজ রোডের ৩০ কাঠার ৪৮নং প্লট। প্লটটি কিনেছেন প্রায় শতকোটি টাকা দিয়ে। সেখানে পেইন টেকিং অটোমোবাইলস নামে গ্যারেজ ভাড়া দিয়েছেন।

এত সম্পদের তালিকা যার নামে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ ( সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট )এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। এই কর্মকর্তা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে  হাতিয়ে নিয়েছে  হাজার কোটি টাকা।

 

সারা দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মাণ করা সড়ক সেতুর চিত্র হচ্ছে অনেক জায়গায় সেতু আছে তো রাস্তা নেই, আবার রাস্তা থাকলেও ব্যবহারের উপযোগী নয়। সড়ক সেতু রক্ষণাবেক্ষণের কিছু হোক আর না হোক, জাবেদ করিমের ভাগ্যের চাকার মেশিন ঘুরছে শত কিলোমিটার গতিতে। বিগত আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সুবিধা নেওয়া জাবেদ করিম এখন নিজেকে বিএনপির পরিবারের সদস্য বলে পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ তিনি পতিত সরকারের একজন দোষর ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ কোন দিন করেননি বলে দাবি করছেন। নিজেকে বঞ্চিত বলেও জানান দিচ্ছেন। আর যে অবৈধ সম্পদ করেছেন তা তিনি অস্বীকার করেছেন। দাবি করেছেন, শুধু বনানীতে তার বাবার একটি বাড়ি আছে।

জাবেদ করিমের সম্পদের হিসাবের বিবরণ দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা মো. আরমান হোসেন। সেই অভিযোগ থেকে তার বিস্ময় জাগানো সম্পদের তালিকা পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় আগারগাঁওয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর বেপরোয়া হয়ে যান জাবেদ করিম। তার টাকা তৈরির মেশিন ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. জাহিদ হোসেন চৌধুরী। জাহিদের সঙ্গে ভাগ-বাটোয়ারা করে সম্পদের পাহাড় গড়েন জাবেদ। শুধু তাই নয়, গণভবন কেন্দ্রিক তার ছিলো অবাধ বিচরণ। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে জাবেদ সিন্ডিকেট হাসিনার নিজস্ব তহবিলে কোটি কোটি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জাবেদ সিন্ডিকেট আগারগাঁও, মিরপুর, মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে কয়েক কোটি টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ জানা গেছে। সূত্রমতে, হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে জাবেদ সিন্ডিকেট টাকা সহ বিভিন্ন ভাবে উৎসাহিত করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলজিইডির সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকাকালে জাহিদের সহায়তায় বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক এবং জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ছিল বিশাল বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, পদভেদে ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকার বেশি নিতেন জাবেদ-জাহিদ মিলে।

এ ছাড়াও এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকেও জাবেদ করিমের অবৈধ সম্পদের কিছুটা আভাস পাওয়া গেছে। এলজিইডির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাবেদ করিম কাউকেই পাত্তা দিতেন না। বদলি কিংবা প্রকল্পের পরিচালক হতে হলে টাকা দিতে হতো। সেই টাকার ভাগ যেত মন্ত্রীর এপিএস জাহিদের কাছেও।(পরের লেখায় বাকিটা তুলে ধরা হবে)

  • শেয়ার করুন