৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,সকাল ৬:৩৯

স্বৈরাচারি সরকারের দোসর হওয়ার পরও কি করে চাকরিতে বহাল থাকে কায়কোবাদ !

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক ঃ কায়কোবাদ আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর।তার শরীরে মাংসে মিষে আছে আওয়ামীলীগের রক্ত। তারা বংশীয়ভাবে আওয়ামী-লীগ পরিবারের লোক।শেরপুর শহর থেকে প্রায় ৮ কিঃমিঃ দুরে তার গ্রামের বাড়ী ১ নং কামারেরচর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে। তার চাচা হইলো শেরপুর সদরের আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম নূর মোহাম্মদ এডভোকেট। তার শ্বশুর জহুরুল হক মাষ্টার ছিলেন  আইন-শৃঙ্খলা ( শান্তি ) কমিটির সদস্য । তার বাবা ইউনুছ আলী সরকার, ওরফে কালু প্রেসিডেন্ট কামারেরচর ইউনিয়নের ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদস্য ছিলেন।তারা আওয়ামীলীগ বংশের হওয়ায় পরিবারের বলতে গেলে সবাই মুক্তিযোদ্ধা।খন প্রশ্ন কায়কোবাদ কেন মুক্তিযোদ্ধা হতে পারলেন না ? হ্যাঁ কায়কোবাদও মুক্তিযোদ্ধা হতেন যদি আওয়ামীলীগ স্বৈরাচারি সরকার আর একটা বছর ক্ষমতায় থাকতেন। তবে এই মাফিয়া ডন আগামি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ সালে অবসরে যাবেন।

কায়কোবাদ ঘুষ নেন, দুর্নীতি করেন তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।এই সিন্ডিকেট ঘটন করেন সে নির্বাহী থাকা কালিনই। নির্বাহী অবস্থায়ই  একবার প্রকল্পের  কোটি টাকার বৈদ্যুতিক তার বিক্রি করে ফেলেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকগন তথ্য জানতে গেলে তাদের খামে ভরে টাকা দিতো । তখন সে অধিদপ্তরে পুর্ব পার্শের ছোট বিল্ডিংএ বসতো। ঐভাবে টাকা দিয়ে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে পার পেয়ে যায়। সেতো মস্তবড় সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ।এভাবে ছোট বড় দুর্নীতিগুলি ধামাচাপা দিতে দিতে আজ সে শীর্ষ দুর্নীতিবাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর তার সাথে অসাধু একদল সাংবাদিক যুক্ত হয়ে তার কাছ থেকে ঘুষ, উৎকোচ নিয়ে তাকে রক্ষা করেছে বলেই আজ শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, শীর্ষ মাফিয়া নামে গণপুর্তে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে এর জন্য বেশিরভাগ দোষি তার সহচর বেশ কিছু অসাধু সাংবাদিক। তারা কায়কোবাদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক উৎকোচ নিতে নিতে এখন তারা কায়কোবাদের ঘনিষ্টজন হয়ে ওঠেছে।তারা কায়কোবাদের অন্যায়, ঘুষ, দুর্নীতি কিছুই দেখে না।সাংবাদিকগন অন্ধ হয়ে গেছে। এদের সহযোগিতায় কায়কোবাদ বিন্দু থেকে সিন্দুক পর্যন্ত হজম করতে সক্ষম হয়েছে। এখন কায়কোবাদ স্বৈরাচারি সরকারের মত বলেন আমার কাছে বড় বড় সাংবাদিকরা এসে বসে থাকেন। আমার কেহ কিছু করতে পারবে না। ঐসব সাংবাদিকদের তেলমালিশে আর সত্য দিন দিন গোপন করায় কায়কোবাদ যে বেপরোয়া হয়ে ওঠছে সেদিকে তাদের নজর নাই। কারন নজর দিলেই তাদের উৎকোচ, মাসওয়ারা, বসার সিট হারাতে হবে বলেই লেখা বন্ধ রেখেছে লোভী সাংবাদিকরা। কিন্তু যে কোন সময়ই ঐ ফ্যাসিবাদ সরকারের মত যে কায়কোবাদের পতন ঘটতে পারে, সে দিকে কি ঐসব অসাধু সাংবাদিকদের খেয়াল আছে ?কায়কোবাদ যে চুয়েটের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন , তা কি ঐ সব সাংবাদিকরা জানেন। তার বাবার –চাচার ও ভাইদের পরিচয় কি জানেন? তার গ্রামের বাড়ী কত সম্পত্তি করেছে তা-কি জানেন,রাজধানীতে তার কত সম্পত্তি , ব্যাংক ব্যালেন্স আছে কত তা-কি জানেন? তার নামে যে গোয়েন্দাদের কাছে ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ আছে তাও কি ভুলে গেছেন।

যে সব সাংবাদিকরা কায়কোবাদকে ঢাকায় ও তার শেরপুরে রক্ষিত বা পোষা কুকুরের মত চব্বিশ ঘন্টা পাহারা দেন ও তার গুনগান বলেন, তারা আসলে সাংবাদিক পেশায় কি আছেন। কারন কোন সরকারি চাকরিজীবী কোন দিন কোন সাংবাদিকের বন্ধু বা ভাই হতে পারের না।কারন ওরা “আমলা আর কামলা” ওরা বিপদে পরলে পা ধরে,বিপদ উৎরিয়ে গেলে কোন কিছু বললেই জাতি সাপেরমত ফোঁস করে ওঠে। এরপরও যদি সাংবাদিকতা করতে এসে দালালি করেন, বেশ ভালো।কিন্তু আপনি চেপে থাকেন। কিন্তু অন্য সাংবাদিকদের নামে দোষ দিবেন, অন্যকে হ্যায়প্রতিপন্ন করবেন না, এটা সাংবাদিক পেশায় পরে না। এতে সাংবাদিক পেশার মান ক্ষুন্ন হয়।

সূত্র জানায়, কায়কোবাদের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট টেন্ডার বণ্টন, প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ প্রবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে। এটাতো স্বাভাবিক ব্যাপার। একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও আওয়ামীলীগের দোসর  এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও অধিদপ্তরের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, মাফিয়া ডন তারতো একটা শক্তিশালী সন্ত্রাসী সিন্ডেকেট থাকবেই। আর এদের পালতে পোষতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫% থেকে ২৮%  শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া এটা বেশি না । কারন আমরাতো কেহ-ই ইষ্টেমেটরে কোন বৈদ্যুতিক তার ,কোন কোম্পানির লেখা আছে তা জানি না।যার ফলে প্রকৌশলীগন আর ঠিকাদার যুক্তি করে একটা সংযোজন দিয়ে দেয়। আর যে টাকা বাচে তা দুজনেই সমান-সমান ভাগ করে নেয়। হ্যাঁ ধরা পরে তখন , যদি কখনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আগুন লেগে যায় তখন হয়তো !

কায়কোবাদের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করা সাংবাদিকদের হুমকি ও চাপের মুখে ফেলার চেষ্টাও চলছে, যা গণমাধ্যম স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।দুদক, মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার নজর থাকা সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে পদোন্নতি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কায়কোবাদের নেতৃত্বে প্রকল্প তদারকিতে অনিয়ম চলছে।ই/এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীরা অনেক কাজ না করেই বিল তুলে ফেলেন।ফলে পুরো গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ই/এ, কায়কোবাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। “পরবর্তী পর্বে থাকবে আকর্ষনীয় ঘটনা।

 

  • শেয়ার করুন