প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গন অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সবাই গা ঢাকা দিলেও সম্পূর্ণ ধরা ছোয়ার বাইরে দুর্নীতিতে অপ্রতিরোধ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আওয়ামী দোসর খাইরুল বাকের।
গনভ্যুথানে ছাত্র জনতার যৌক্তিক আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনের বিপক্ষে একাধিক পোস্ট ও কমেন্ট করে ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্র আন্দোলনকে প্রতিহত করতে চেষ্টার কোন কমতি রাখেনি ডিএসসিসি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খাইরুল বাকের।
জানা যায়, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে খাইরুল বাকেরের বাবা মিন্নত আলী ছিলেন নৌকার মাঝি, তিনি খেয়া পারাপার সহ কুলির কাজও করেছেন। দিন এনে দিন খাওয়া এই খাইরুল বাকের ২০০১ সালে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হিসাবে যোগদান করার পর থেকে আলাদিনের চেরাগ হাতে পায়। তার পর থেকেই অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি হতে থাকে তার স্ত্রী ও পাঁচ ভাইদের সম্পত্তি ।
দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী খাইরুল বাকের ৫ থেকে ৭ % কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দিতেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খাইরুল বাকেরের নামে বেনামে রয়েছে অত্যন্ত ৬০০ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি খাইরুল বাকের আনুমানিক ১৫০০ শত কোটি টাকার মালিক। নিকট আত্মীয় সিন্ডিকেট করে ৫ ভাই, ২ ছেলে ও স্ত্রী, জেবুন নাহারের নামে ঢাকা এবং নরসিংদী-সহ রয়েছে অন্তত ১৩ টা বাড়ী ও ৬০০ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে খাইরুল বাকের ছিলেন, নরসিংদী বেলাবো- মনোহরদী উপজেলার আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা। স্বৈরাচার সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সাথে ছিলো তার ঘনিষ্ঠতা। সাবেক এই মন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায় খাইরুল বাকের অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করারও অভিযোগ উঠে। খাইরুল বাকের বেলাবো ও মনোহরদী উপজেলার আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা হিসেবেও বেশ পরিচিত।
ছাত্র জীবনে খাইরুল বাকের চুয়েট (চট্রগ্রাম প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়) শহীদ তারেক হুদা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে (চট্টগ্রাম প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
গত ২৬ ই জুন ২০২২ সালে তার একটি দৈনিকপত্রিকায় “দূর্নীতির টাকায় অঢেল সম্পদ তার, এলাকায় দানশীল!” শিরোনামে খাইরুল বাকেরের অপকর্মের তথ্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সেই প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দিয়ে সেখানে নিজেকে ছাত্রলীগ দাবি করে খাইরুল বাকের।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে তার তিন ভাইয়ের নামে রয়েছে ৪ টা বাড়ী। বড় ভাই আলাউদ্দিনের নামে ২ টা, ছোট ভাই হোসেন আলীর নামে ১ টা ও বড় ভাই রাশেদ মিয়ার নামে ১ টা।খাইরুল বাকেরের নিজ নামে খিলগাঁও তালতলায় অতশী লাবনী বিল্ডিংয়ে রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের ১ টি ফ্লাট।
তার স্ত্রী জেবুন নাহার, সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কমন সার্ভিস ডিভিশনে এজিএম হিসেবে কর্মরত ও খাইরুল বাকেরের নিজ নামে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আই ব্লকে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয় তলা ভবনের ৪ তলায় ৬ কোটি টাকা মূল্যে ক্রয় করা ২ টা ইউনিট।
স্ত্রী জেবুন নাহারের নামে সিপাহী বাগ খিলগাঁওয়ে ১ বাড়ী, পূর্বাচল সেক্টর:১০, ৪০৭/সি রোডে ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৩ কাঠার একটা প্লট ও একটা টয়োটা প্রাইভেট কার।
ছোট ভাই খাইরুল হাছানের নামে, নরসিংদীর ভেলানগরে ৩ তলা একটি বাড়ী।
নরসিংদী জেলার বেলাবো থানাধীন নারায়ণপুর বাজারে খাইরুল বাকের ও তার ছোট ভাই খাইরুল হাসানের নামে রয়েছে আরও ২ টি বাড়ী। তাছাড়া নারায়ণপুর বাজারে বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি জমি কিনে রেখেছে এই দুর্বৃত্ত।
৩ কোটি টাকা মূল্যের আলিশান ৩ তলা কমপ্লিট একটা ট্রিপ্লেক্স বাড়ি সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে বাড়ী- গাড়ী ফ্লাট, প্লট সহ রয়েছে অন্তত ৬০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি।
২০২৫ সালের ১৭-ই ফেব্রুয়ারি তার অপকর্মের একটি অভিযোগ জমা হয় দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের ছত্র-ছায়ায় দুর্নীতির মাধ্যমে নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এই খাইরুল বাকের।
খাইরুল বাকেরের স্ত্রী জেবুন নাহারের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, ওনি নিজেকে একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করে।
তার এই লাগামহীন দূর্নীতির বিষয়ে একাধিকবার বক্তব্য নিতে গেলেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (প্রশাসক) ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, খাইরুল বাকেরের বিষয়টি সম্পর্কে আমি ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবো।
৫ই আগস্টের পরেও এই আওয়ামী দোসর ও দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা খাইরুল বাকের রয়েছে স্বপদে বহাল রয়েছেন এবং পদোন্নতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ।