প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি ঃ
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেফতার ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।বিভিন্ন ব্যাবসায়ী এবং নিরীহ মানুষ কে টার্গেট করে গ্রেফতার ও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের পাশাপাশি নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘ বছর এই জেলার বিভিন্ন থানায় চাকরির সুবাদে সবধরনের অপরাধী ও মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার পুরনো সখ্যতা নতুন করে গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে সামারিবাজ অফিসার হিসেবে চিহ্নিত সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এস আই সাখাওয়াত হোসেন সঙ্গে দু’জন ফোর্স সহ পাইকপাড়া টু হাটখোলা রোডের পশ্চিম মুসলিম নগর মসজিদের সামনে থেকে ইব্রাহিম হোসেন নামে একজন কে হাতকড়া পরিয়ে গাড়ীতে তুলে কাশিপুর হাটখোলা মোড়ে নিয়ে যান এবং ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন।এমনকি টাকা না দিলে মামলায় চালান দেওয়ার ভয় দেখান।তখন আটকের কারণ জানতে চাইলে ইব্রাহিম কে পরিবহন চাঁদাবাজ হিসেবে আটকের কথা জানান তিনি। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘিরে ধরে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ইব্রাহিম কে ছেড়ে দেন।কিন্তু ইব্রাহিমের পকেটে থাকা ১৬ ‘শ টাকা এবং স্ট্যান্ডের রুবেল হোসেনের কাছ থেকে ১২’শ টাকা হাতিয়ে নেন সাখাওয়াত হোসেন।
ভুক্তভোগী ইব্রাহিম অভিযোগ করেন,কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ আমাকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়ীতে তুলে।সাখাওয়াত দারোগা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে এবং মামলায় চালান দেওয়ার ভয় দেখায়।একপর্যায়ে ভয়ে স্ট্যান্ডের রুবেল কে দেখে ডাক দেয়।তখন আশপাশের দোকানের লোকজন আসে।পরে তার কাছে থাকা কিছু টাকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাটখোলা মোড়ের রুবেল হোসেন জানান,পুলিশের বিশুকের ভেতর ইব্রাহিম কে দেখে এগিয়ে গিয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করেন।তখন দারোগা সাখাওয়াত হোসেন বলেন পরিবহন চাঁদাবাজির জন্য ইব্রাহিম কে আটক করা হয়েছে। টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে।তখন আমার কাছে ১২’শ টাকা ছিল দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ইব্রাহিম কে না ছাড়ার কারণে এলাকাবাসী জড়ো হয়।পরে ইব্রাহিম কে ছেড়ে দেয়।
হয়রানির শিকার বন্দর রুপালীর খোরশেদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক’দিন আগে সদর থানার সামনে দোকানে চা খাওয়ার সময় হটাৎ করে এসআই সাখাওয়াত হোসেন তাকে “ওসি সাহেব ডাকেন” বলে থানার ভেতর নিয়ে যান।একপর্যায়ে তাকে “আওয়ামী লীগ” আখ্যা দিয়ে মোটা অংকের অর্থ দাবী করেন।পরে থানার বাইরে গিয়ে দশ হাজার টাকা আদায় করে সাখাওয়াত হোসেন।
থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, এসআই সাখাওয়াত হোসেন এর বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন নিরীহ মানুষ কে টার্গেট করে হয়রানির মাধ্যমে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চলাচলের বিভিন্ন গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগে ইব্রাহিম কে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জানান,পরিবহনের শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে যানজটমুক্ত করার জন্য তাদের কিছু অর্থ দেওয়া হয়।পরে ইব্রাহিম কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো টাকা পয়সা নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন রূপালীর খোরশেদ আলম নামে কাউকে চিনেন না।