প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২৫

খেলা ডেস্ক ঃ
একটা সামান্য ভুল একজনের জীবন কীভাবে এলোমেলো করে দিতে পারে! নামিয়ে দিতে পারে আকাশ থেকে মাটিতে। সেই ভুলটাই করেছিলেন আলেহান্দ্রো দারিও গোমেজ। আর্জেন্টিনা দলে যাকে সবাই ডাকে পাপু গোমেজ নামে। দীর্ঘদিন খেলেছেন জাতীয় দলে, লিওনেল মেসির সঙ্গে, জিতেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। অথচ সেই পাপু গোমেজ কিনা ফুটবলে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ভুলে কাশির সিরাপ খেয়ে!
সেই ভুলের খেসারতও দিয়েছেন। দুই বছর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ফুটবলে। এখন ফিরেছেন, তবে আগের মতো শীর্ষ পর্যায়ে আর খেলার সুযোগ কমই তাঁর। এখন খেলছেন ইতালিয়ান ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের (সিরি ‘বি’) দল পাভোদাতে। নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর গতকাল সোমবার প্রথম মাঠে নেমেছেন নিজের নতুন ক্লাবের হয়ে। খেলেছেন ৩২ মিনিট।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের আগে গোমেজ খেলতেন সেভিয়ায়। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে থাকতেই কয়েক দিন অসুস্থ বোধ করছিলেন। সামনে বিশ্বকাপ থাকায় দ্রুত সুস্থ হতে তিনি ছেলের কাশির সিরাপ খেয়েছিলেন।
তবে সিরাপটি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেননি। পরে জানা যায়, ওই সিরাপ খেলোয়াড়দের জন্য নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকাভুক্ত। সিরাপে বিটা২-অ্যাড্রেনার্জিক নামক পদার্থ থাকায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ হন। পরবর্তী সময় ২০২৩ সালে অক্টোবরে গোমেজকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সময় তিনি খেলতেন ইতালিয়ান ক্লাব মোনৎসায়।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার পাপু গোমেজইনস্টাগ্রাম
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অনেক দিন চুপ থাকার পর সম্প্রতি ৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার ইউটিউব চ্যানেল দে ভিসিতান্তেকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘অন্যরা কোকেন নেয়, গাঁজা টানে—তাদের ছয় মাসের সাজা হয়। আর আমি আমার ছেলের কাশির সিরাপ খেয়ে পেলাম দুই বছর! এটা কেমন বিচার! তবে হ্যাঁ, আমি সেটা মেনে নিয়েছি। এখনো লড়ছি। আমি খুব রাগান্বিত ছিলাম। ফুটবল দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আমার কাছে ফুটবল তখন ছিল মৃত। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম, মনোবিজ্ঞানীর কাছে গিয়েছিলাম।’
আর্জেন্টাইন ফুটবলার পাপু গোমেজএএফপি
অবশেষে সেই কঠিন সময়টা পেরিয়ে আবার ফুটবলে ফিরেছেন গোমেজ। ম্যাচটা যদিও জিততে পারেনি তাঁর দল, ভেনেজিয়ার কাছে হেরে গেছে ২-০ গোলে। তবে মাঠে ফিরে গোমেজ দিয়েছেন শক্ত বার্তা, ‘আমি এখানে ঘুরতে আসিনি। আমার লক্ষ্য পদোভাকে যতটা সম্ভব উঁচুতে নিয়ে যাওয়া।’
হয়তো পারবেন, হয়তো পারবেন না। তবে মাঠে ফেরার পর তাঁর এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দেয়, তিনি এখনো লড়াই করতে চান। আর ফুটবল নামের এই নাট্যমঞ্চে, শেষ দৃশ্যটা তিনি লিখতে চান নিজের হাতেই।